খুলনার ফুলতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, কাজ শুরু করার কথা বলে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও পাঁচ মাসেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে ঘুষের টাকা নিয়ে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তি সংক্রান্ত কেস নম্বর-৭৩/২০২৫-২৬-এর সরেজমিন তদন্ত, স্কেচম্যাপ ও মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসকে। বিষয়টি ফুলতলার উত্তর ডিহির ইদ্রিস ফারাজীর ৬৭ শতক জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইদ্রিস ফারাজীর অভিযোগ, ওই জমির সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দ্রুত দাখিলের কথা বলে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কাজ শুরু করার জন্য অগ্রিম হিসেবে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা আতিকুর রহমান গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, টাকা দেওয়ার পরও দিনের পর দিন কাজটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে আরও টাকা চাওয়া হতে থাকে। এ সময় ইদ্রিস ফারাজীর ভাগ্নের সঙ্গে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের টাকা নিয়ে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ওই রেকর্ডে ঘুষের টাকা দাবি-সংক্রান্ত কথাবার্তা রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ইদ্রিস ফারাজী অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তার জমির অবমুক্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী বলেন, “আমি নিরুপায় হয়ে আতিককে টাকা দিয়েছি। অথচ দিন দিন তার টাকার অংকের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলে আমি আর মুখ বুঝে বিষয়টি সহ্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি।”
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, আতিকুর রহমান এর আগে রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অডিও রেকর্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই সময়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল কি না, কিংবা তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফল কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফুলতলায় দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে বলে ইদ্রিস ফারাজী দাবি করেছেন। তবে অন্য অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীদের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ঘুষ দাবি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যা বলার অফিসে এসে বলেন।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, ১৪ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ এবং কল রেকর্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ (যুগ্মসচিব) মুঠোফোনে বলেন, “অভিযোগের কপিটি এখনও আমি হাতে পাইনি।”
অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খুলনার ফুলতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, কাজ শুরু করার কথা বলে ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও পাঁচ মাসেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে ঘুষের টাকা নিয়ে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তি সংক্রান্ত কেস নম্বর-৭৩/২০২৫-২৬-এর সরেজমিন তদন্ত, স্কেচম্যাপ ও মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপজেলা ভূমি অফিসকে। বিষয়টি ফুলতলার উত্তর ডিহির ইদ্রিস ফারাজীর ৬৭ শতক জমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইদ্রিস ফারাজীর অভিযোগ, ওই জমির সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দ্রুত দাখিলের কথা বলে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। কাজ শুরু করার জন্য অগ্রিম হিসেবে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা আতিকুর রহমান গ্রহণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, টাকা দেওয়ার পরও দিনের পর দিন কাজটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে আরও টাকা চাওয়া হতে থাকে। এ সময় ইদ্রিস ফারাজীর ভাগ্নের সঙ্গে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের টাকা নিয়ে কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ওই রেকর্ডে ঘুষের টাকা দাবি-সংক্রান্ত কথাবার্তা রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ইদ্রিস ফারাজী অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও তার জমির অবমুক্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস ফারাজী বলেন, “আমি নিরুপায় হয়ে আতিককে টাকা দিয়েছি। অথচ দিন দিন তার টাকার অংকের পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলে আমি আর মুখ বুঝে বিষয়টি সহ্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি।”
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, আতিকুর রহমান এর আগে রূপসা উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং অডিও রেকর্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই সময়ের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়েছিল কি না, কিংবা তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফল কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফুলতলায় দায়িত্ব নেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে বলে ইদ্রিস ফারাজী দাবি করেছেন। তবে অন্য অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীদের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ঘুষ দাবি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যা বলার অফিসে এসে বলেন।” এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি, ১৪ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ এবং কল রেকর্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ (যুগ্মসচিব) মুঠোফোনে বলেন, “অভিযোগের কপিটি এখনও আমি হাতে পাইনি।”
অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর এ বিষয়ে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন