ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৭ জন গ্রেফতার

হাটহাজারীতে সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ



হাটহাজারীতে সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে চক্রটি চাঁদা দাবি করত। অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং বায়েজিদ থানার জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীও সাতজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা প্রথমে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে টার্গেট নির্ধারণ করতেন। এরপর বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। ফোনে ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো।

সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেফতার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং বিদেশি নম্বর সংযুক্ত চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নামকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে পৃথক একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটটি মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে পুলিশের আনা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বা তাদের আইনজীবীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাটহাজারীতে সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে চক্রটি চাঁদা দাবি করত। অভিযানে চারটি মোবাইল ফোন ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং বায়েজিদ থানার জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীও সাতজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা প্রথমে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে টার্গেট নির্ধারণ করতেন। এরপর বিদেশি মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। ফোনে ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো।

সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং আগে গ্রেফতার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং বিদেশি নম্বর সংযুক্ত চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নামকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে পৃথক একটি চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হতো।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আটটি মামলা রয়েছে। মানিকের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে তিনটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে পুলিশের আনা অভিযোগের বিষয়ে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বা তাদের আইনজীবীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ