" স্বাক্ষরতা শুধু বইয়ের পাতায় শব্দ চেনার নাম নয়; এটি মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনমুখী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) ' মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য স্বাক্ষরতা '—এই কালজয়ী ও সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস-২০২৬-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভা কক্ষে এই সুধি সমাবেশ ও আলো আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে আধুনিক ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে প্রথাগত স্বাক্ষরতা বা কেবল অক্ষরজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আধুনিক বিশ্বের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাক্ষরতা, আর্থিক সচেতনতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজের একটি বড় অংশ বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে যদি শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করা না যায়, তবে সার্বিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। প্রতিটি মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুণীজন সমাবেশে বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইফুর রহমান স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সাক্ষরতার নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সঠিক সুবিধা পেতে এবং একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্বাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। সচেতন নাগরিকই স্বাস্থ্যকর সমাজ কাঠামোর মূল স্তম্ভ।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সামাজিক অপরাধ রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং আইন মান্যকারী সুনাগরিক তৈরিতে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছায়, সেখানে অজ্ঞতা ও অপরাধের অন্ধকার দূর হতে বাধ্য।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং মানসম্মত ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণে জেলা প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, অক্ষরজ্ঞানের আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে যখন আমরা জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারব, তখনই একটি সত্যিকারের আলোকিত, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন সমাজ বাস্তব রূপ লাভ করবে।
আলোচনা সভার শুরুতেই আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ ও তথ্যচিত্র উপস্থান করা হয়। এতে জেলার বর্তমান স্বাক্ষরতার হার, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অগ্রগতি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশদ তথ্য পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে জেলার সর্বস্তরে শিক্ষার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা এবং স্বাক্ষরতা অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রানবন্ত এ সভার সমাপ্তি ঘটে।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
" স্বাক্ষরতা শুধু বইয়ের পাতায় শব্দ চেনার নাম নয়; এটি মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, সচেতনতা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে হলে সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনমুখী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ) ' মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য স্বাক্ষরতা '—এই কালজয়ী ও সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস-২০২৬-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট সভা কক্ষে এই সুধি সমাবেশ ও আলো আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে আধুনিক ও পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, আজকের প্রেক্ষাপটে প্রথাগত স্বাক্ষরতা বা কেবল অক্ষরজ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। আধুনিক বিশ্বের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল স্বাক্ষরতা, আর্থিক সচেতনতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমাজের একটি বড় অংশ বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে যদি শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করা না যায়, তবে সার্বিক উন্নয়ন কখনোই টেকসই হতে পারে না। প্রতিটি মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুণীজন সমাবেশে বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইফুর রহমান স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সাক্ষরতার নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সঠিক সুবিধা পেতে এবং একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্বাক্ষরতার কোনো বিকল্প নেই। সচেতন নাগরিকই স্বাস্থ্যকর সমাজ কাঠামোর মূল স্তম্ভ।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সামাজিক অপরাধ রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং আইন মান্যকারী সুনাগরিক তৈরিতে শিক্ষার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার আলো যেখানে পৌঁছায়, সেখানে অজ্ঞতা ও অপরাধের অন্ধকার দূর হতে বাধ্য।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলায় স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং মানসম্মত ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণে জেলা প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, অক্ষরজ্ঞানের আলো প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে যখন আমরা জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারব, তখনই একটি সত্যিকারের আলোকিত, স্বাবলম্বী ও বৈষম্যহীন সমাজ বাস্তব রূপ লাভ করবে।
আলোচনা সভার শুরুতেই আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ ও তথ্যচিত্র উপস্থান করা হয়। এতে জেলার বর্তমান স্বাক্ষরতার হার, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অগ্রগতি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশদ তথ্য পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে জেলার সর্বস্তরে শিক্ষার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করা এবং স্বাক্ষরতা অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রানবন্ত এ সভার সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন