হাওর ও সমতলের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক নগরী কিশোরগঞ্জে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের ময়মনসিংহ রোডের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত অতিথি কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় রূপ নেয় এই আয়োজন।
বিদায়ী সভাপতি এ.কে.এম. মুজিবুর রহমানের (বেলাল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
স্বাগত ও সভাপতির বক্তব্যে এ.কে.এম. মুজিবুর রহমান (বেলাল) চেম্বারের বিদায়ী মেয়াদের সার্বিক কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য এবং স্থানীয় বাণিজ্য বিকাশে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সাধারণ সভার মূল আনুষ্ঠানিকতায় চেম্বারের বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়, যা উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। সভা শেষে বিদায়ী নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নতুন পর্ষদের কাছে চেম্বারের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সম্মেলনে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদ্বয়ের বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির চিত্র। বিশেষ করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের সাহসী ও প্রশংসনীয় পদচারণার বিষয়টি গভীর শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবদান অপরিসীম। কিশোরগঞ্জের বর্তমান বাণিজ্যিক অগ্রগতিতে আমাদের নারী উদ্যোক্তারা যে গতিশীলতা এনেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে এই নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা জরুরি।" তিনি চেম্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা নারী উদ্যোক্তাদের সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা, ঋণ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণের পথ সুগম করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "ব্যবসায়ীদের এই ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম কিশোরগঞ্জের সার্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান যুগে নারী-পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব। তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তারা যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যাপারে চেম্বারকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।"
জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কিশোরগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চেম্বার অব কমার্স নতুন নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আমরা আশাবাদী।"
বার্ষিক সাধারণ সভায় কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদীয়মান উদ্যোক্তা, চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান সদস্যগণ সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, উষ্ণতা ও শুভকামনার আমেজ। নতুন নেতৃত্বের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় কিশোরগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য খাত আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ হবে—এমনই ইতিবাচক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর সভার যবনিকাপাত ঘটে।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাওর ও সমতলের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক নগরী কিশোরগঞ্জে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৩৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহরের ময়মনসিংহ রোডের গাইটাল এলাকায় অবস্থিত অতিথি কমিউনিটি সেন্টারে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলায় রূপ নেয় এই আয়োজন।
বিদায়ী সভাপতি এ.কে.এম. মুজিবুর রহমানের (বেলাল) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সাধারণ সভায় সম্মানিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
স্বাগত ও সভাপতির বক্তব্যে এ.কে.এম. মুজিবুর রহমান (বেলাল) চেম্বারের বিদায়ী মেয়াদের সার্বিক কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য এবং স্থানীয় বাণিজ্য বিকাশে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সাধারণ সভার মূল আনুষ্ঠানিকতায় চেম্বারের বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করা হয়, যা উপস্থিত সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। সভা শেষে বিদায়ী নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে নতুন পর্ষদের কাছে চেম্বারের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
সম্মেলনে প্রধান ও বিশেষ অতিথিদ্বয়ের বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির চিত্র। বিশেষ করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তাদের সাহসী ও প্রশংসনীয় পদচারণার বিষয়টি গভীর শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, "একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবদান অপরিসীম। কিশোরগঞ্জের বর্তমান বাণিজ্যিক অগ্রগতিতে আমাদের নারী উদ্যোক্তারা যে গতিশীলতা এনেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে এই নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা জরুরি।" তিনি চেম্বারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা নারী উদ্যোক্তাদের সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা, ঋণ প্রাপ্তিতে সহযোগিতা ও বাজারজাতকরণের পথ সুগম করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, "ব্যবসায়ীদের এই ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম কিশোরগঞ্জের সার্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান যুগে নারী-পুরুষের যৌথ অংশগ্রহণে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব। তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তারা যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যাপারে চেম্বারকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।"
জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কিশোরগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চেম্বার অব কমার্স নতুন নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও সুসংগঠিত করবে বলে আমরা আশাবাদী।"
বার্ষিক সাধারণ সভায় কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদীয়মান উদ্যোক্তা, চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান সদস্যগণ সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, উষ্ণতা ও শুভকামনার আমেজ। নতুন নেতৃত্বের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতায় কিশোরগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য খাত আগামী দিনে আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ হবে—এমনই ইতিবাচক প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর সভার যবনিকাপাত ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন