ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডেমরায় বিএনপি নেতার বাসায় গুলির ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২


আবু সাঈদ
আবু সাঈদ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডেমরায় বিএনপি নেতার বাসায় গুলির ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে তদন্তে নেমেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডেমরা থানার পুলিশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ রানা ও তাঁর সহযোগী তরিকুল ইসলাম তাপসকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান এবং আটটি গুলি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে চলায় দ্বন্দ্বের জের ধরেই বিএনপি নেতার বাসায় হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা রেজা চৌধুরীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে ডেমরা এলাকাভিত্তিক অনলাইনে মাদক কেনাবেচার একটি বড় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা। আওয়ামী লীগ আমলের পুরনো মাদক কারবারিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ কারবার গড়ে ওঠে। রেজা চৌধুরী মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং বারবার বাধা প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হন মাসুদ রানা। এমনকি পূর্বেও রেজা চৌধুরীকে এ নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে তদন্তের সাথে যুক্ত একটি পুলিশ সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেবল মাদকই নয়—এলাকার ফুটপাত ও টেম্পোস্ট্যান্ডের মতো লাভজনক স্থানগুলোর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে রেজা চৌধুরীর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ছিল। এই সবের যৌথ সমীকরণ হিসেবেই এ হামলা সংঘটিত হয়। তবে চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন রেজা চৌধুরী।

গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে সারুলিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়:

  • চারটি মোটরসাইকেলে চড়ে মোট আটজন হামলাকারী রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে পৌঁছান।

  • প্রথম মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের প্যাকেট থেকে একনলা শুটারগান বের করেন।

  • অপর এক হামলাকারী কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে মাটিতে ও পরে বাসাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

  • পরবর্তীতে শুটারগান বহনকারী ব্যক্তি পিস্তলটি হাতে নিয়ে পুনরায় ঘরের দিকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং চিৎকার করে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হামলায় কেউ হতাহত না হলেও মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের গতি বজায় রাখতে এবং বাকি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনায় যুক্ত বাকি ৬ জনকেও শিগগিরই আইনের মুখোমুখি করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদক কারবার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডেমরায় বিএনপি নেতার বাসায় গুলির ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে তদন্তে নেমেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডেমরা থানার পুলিশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ রানা ও তাঁর সহযোগী তরিকুল ইসলাম তাপসকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি পিস্তল, একটি একনলা শুটারগান এবং আটটি গুলি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক ব্যবসা এবং স্থানীয় চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে চলায় দ্বন্দ্বের জের ধরেই বিএনপি নেতার বাসায় হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা রেজা চৌধুরীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে ডেমরা এলাকাভিত্তিক অনলাইনে মাদক কেনাবেচার একটি বড় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা। আওয়ামী লীগ আমলের পুরনো মাদক কারবারিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ কারবার গড়ে ওঠে। রেজা চৌধুরী মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এবং বারবার বাধা প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হন মাসুদ রানা। এমনকি পূর্বেও রেজা চৌধুরীকে এ নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে তদন্তের সাথে যুক্ত একটি পুলিশ সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, কেবল মাদকই নয়—এলাকার ফুটপাত ও টেম্পোস্ট্যান্ডের মতো লাভজনক স্থানগুলোর চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে রেজা চৌধুরীর দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ছিল। এই সবের যৌথ সমীকরণ হিসেবেই এ হামলা সংঘটিত হয়। তবে চাঁদাবাজির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন রেজা চৌধুরী।

গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে সারুলিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়:

  • চারটি মোটরসাইকেলে চড়ে মোট আটজন হামলাকারী রেজা চৌধুরীর বাসার সামনে পৌঁছান।

  • প্রথম মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি কাঁধে থাকা ক্রিকেট ব্যাটের প্যাকেট থেকে একনলা শুটারগান বের করেন।

  • অপর এক হামলাকারী কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে মাটিতে ও পরে বাসাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

  • পরবর্তীতে শুটারগান বহনকারী ব্যক্তি পিস্তলটি হাতে নিয়ে পুনরায় ঘরের দিকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন এবং চিৎকার করে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হামলায় কেউ হতাহত না হলেও মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর রেজা চৌধুরী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, ঘটনার পেছনে মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের গতি বজায় রাখতে এবং বাকি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনায় যুক্ত বাকি ৬ জনকেও শিগগিরই আইনের মুখোমুখি করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ