আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব দাবি জানান। বিবৃতির শুরুতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখনো অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোংলার মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও বিবৃতিতে তুলে ধরেন এনসিপি আহ্বায়ক। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। তার পরিবার ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, সাদা পোশাকে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটি জানিয়েছে, নিজেদের অনুসন্ধানে মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরাজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন দাবি করেছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার আলামত তারা পেয়েছেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে স্বাধীন কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা তদন্তে কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সুন্দরবন এলাকার জলদস্যু বা বনদস্যুদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এর মধ্যে রয়েছে—মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরা, প্রতিটি গুমের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা সময়কাল নির্বিশেষে প্রতিটি গুমের অভিযোগের সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এসব দাবি জানান। বিবৃতির শুরুতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশে গুমকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখনো অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মোংলার মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও বিবৃতিতে তুলে ধরেন এনসিপি আহ্বায়ক। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখ গত ১০ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ। তার পরিবার ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, সাদা পোশাকে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যান। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনীটি জানিয়েছে, নিজেদের অনুসন্ধানে মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ বা হেফাজতে নেওয়ার কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরাজের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন দাবি করেছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ডিজিটাল তথ্য পর্যালোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার আলামত তারা পেয়েছেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরে স্বাধীন কোনো সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা তদন্তে কোনো সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সুন্দরবন এলাকার জলদস্যু বা বনদস্যুদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সরকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। এর মধ্যে রয়েছে—মিরাজ শেখসহ গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা, তাদের পরিবারের কাছে ঘটনার সত্য তুলে ধরা, প্রতিটি গুমের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সংসদে উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগের তদন্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ না হলে দেশে গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা সময়কাল নির্বিশেষে প্রতিটি গুমের অভিযোগের সত্য উদ্ঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন