গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তুলনা করেন।
হাসনাত দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০টি এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাসংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যানও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তবে এসব পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলাটিতে কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করলেও সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমার মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হচ্ছে—এমন বক্তব্য দেন তিনি।
একই সঙ্গে গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।
তার দীর্ঘ সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’ হাসনাতের দেওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান কীসের ভিত্তিতে তৈরি, সেটিও তার জানা নেই বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান এবং সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের কথা ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে খবর এসেছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে আলাদা ছিল।

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তুলনা করেন।
হাসনাত দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০টি এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাসংক্রান্ত কিছু পরিসংখ্যানও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। তবে এসব পরিসংখ্যানের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলাটিতে কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করলেও সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমার মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হচ্ছে—এমন বক্তব্য দেন তিনি।
একই সঙ্গে গত ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।
তার দীর্ঘ সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’ হাসনাতের দেওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান কীসের ভিত্তিতে তৈরি, সেটিও তার জানা নেই বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, বর্তমান সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান এবং সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের পর স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনিসিয়া মাদরাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা আয়োজনের কথা ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধের বিষয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে খবর এসেছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে আলাদা ছিল।

আপনার মতামত লিখুন