ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে ফিরল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা


খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে ফিরল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

খুলনার ডুমুরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

প্রকল্পের একটি ছিল কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন। এতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা। অপরটি সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করে খালের পানি অপসারণ ছাড়াই ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি তুলে খালের পাড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার পানিতে ওই মাটি আবার খালে পড়ে গেলে পুনরায় খাল ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, সরেজমিনে কাজের পরিমাণ কম থাকলেও প্রতিবেদনে ৭১ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি দেখানো হয়েছিল।

এ নিয়ে দৈনিক খুলনাঞ্চল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের কাজ ও ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কাজের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন টাকা ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কাজের পরিমাণ মূল্যায়নের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকারও অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারি কোষাগারে ফিরল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়ায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।

প্রকল্পের একটি ছিল কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন। এতে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা। অপরটি সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করে খালের পানি অপসারণ ছাড়াই ভাসমান এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি তুলে খালের পাড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষার পানিতে ওই মাটি আবার খালে পড়ে গেলে পুনরায় খাল ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে দাপ্তরিক প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, সরেজমিনে কাজের পরিমাণ কম থাকলেও প্রতিবেদনে ৭১ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত অগ্রগতি দেখানো হয়েছিল।

এ নিয়ে দৈনিক খুলনাঞ্চল অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের কাজ ও ব্যয়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতা শুরু হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী ব্রহ্ম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কাজের পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন টাকা ফেরতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কাজের পরিমাণ মূল্যায়নের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনা হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকারও অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়দের একাংশ। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ