ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গলাচিপায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সংঘাত: আদালতের নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন?



গলাচিপায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সংঘাত: আদালতের নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন?

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা-নলুয়াবাগী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা প্রফেসর মোঃ গোলাম গাউস (৫৮) ও তার ভাই হাবিবুর রহমান (৫৬), ওরফে ‘ভান্ডার মাস্টার’-এর সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ হারুন হাওলাদার (৫৭) গং-এর দীর্ঘদিনের জমা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


জানা গেছে, জে.এল. নং-১১৬, মৌজা-বাদুরে অবস্থিত পৈত্রিক ও কবলা সূত্রে  ১২ একর সম্পত্তি নিয়ে  দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গোলাম গাউস গং তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হারুন হাওলাদার গং গলাচিপা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪৯/২৬) দায়ের করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  গলাচিপা থানাকে  উভয় পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গলাচিপা থানার এস.আই শহিদুল ইসলাম (নি:) ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন জমি আবাদ বা ভোগদখল না করেন সে নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হারুন হাওলাদার গং দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে লোকজনসহ উক্ত জমিতে জোরপূর্বক আবাদ করেন। এ সময় বিবাদীপক্ষ বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে গোলাম গাউস ও হাবিবুর রহমানের বাড়ির বিভিন্ন ফলজ গাছ থেকে ডাব, জাম্বুরা সহ অন্যান্য ফল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল প্যাদা। তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করলে গলাচিপা থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে, সোনাখালি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর গোলাম গাউস    অভিযোগ করেন তারা বাড়িতে না থাকায় , হারুন, নুরু ও মোস্তফা গং তাদের বসতবাড়ির বিভিন্ন ফলমূল এবং পুকুরের মাছ জোরপূর্বক নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তারা গলাচিপা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১০৭, ১১৪ ও ১১৭ ( গ ) ধারায় আরেকটি মামলা (মামলা নং-১৬২/২৬) দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় কীভাবে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি আবাদ করতে সক্ষম হলেন? এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


গলাচিপায় পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সংঘাত: আদালতের নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন?

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা-নলুয়াবাগী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা প্রফেসর মোঃ গোলাম গাউস (৫৮) ও তার ভাই হাবিবুর রহমান (৫৬), ওরফে ‘ভান্ডার মাস্টার’-এর সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ হারুন হাওলাদার (৫৭) গং-এর দীর্ঘদিনের জমা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


জানা গেছে, জে.এল. নং-১১৬, মৌজা-বাদুরে অবস্থিত পৈত্রিক ও কবলা সূত্রে  ১২ একর সম্পত্তি নিয়ে  দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গোলাম গাউস গং তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হারুন হাওলাদার গং গলাচিপা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪৯/২৬) দায়ের করেন।

মামলাটি আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট  গলাচিপা থানাকে  উভয় পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে গলাচিপা থানার এস.আই শহিদুল ইসলাম (নি:) ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন জমি আবাদ বা ভোগদখল না করেন সে নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে হারুন হাওলাদার গং দেশীয় অস্ত্র ও রামদা নিয়ে লোকজনসহ উক্ত জমিতে জোরপূর্বক আবাদ করেন। এ সময় বিবাদীপক্ষ বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে গোলাম গাউস ও হাবিবুর রহমানের বাড়ির বিভিন্ন ফলজ গাছ থেকে ডাব, জাম্বুরা সহ অন্যান্য ফল জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল প্যাদা। তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করলে গলাচিপা থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে, সোনাখালি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর গোলাম গাউস    অভিযোগ করেন তারা বাড়িতে না থাকায় , হারুন, নুরু ও মোস্তফা গং তাদের বসতবাড়ির বিভিন্ন ফলমূল এবং পুকুরের মাছ জোরপূর্বক নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তারা গলাচিপা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ১০৭, ১১৪ ও ১১৭ ( গ ) ধারায় আরেকটি মামলা (মামলা নং-১৬২/২৬) দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর থাকা অবস্থায় কীভাবে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি আবাদ করতে সক্ষম হলেন? এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ