টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্যত্র বদলি করতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নাজমুল আলমকে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফওকে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
এর আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমি বন বিভাগকে দালালমুক্ত করব। বন বিভাগের যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খাবে এবং ঘুষ না পেলেই মানুষের নামে মামলা করবে, তাদেরকে দেখব।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) সবার আগে মামলায় ঝোলাব ঘুষখোর।’
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ডিএফও নাজমুল আলমকে ফোন করে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের সখীপুরের হলুদিয়া চালায় একটি টিনের দোকান ছিল। এখানে আপনার রেঞ্জার এমরান দালালদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। হয়তো তারা এখানে আগের চেয়ে একটু বড় করে ঘর দিয়েছিল। সেখানে আপনার রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান টাকা বেশি পায় নাই অথবা নিজের গা বাঁচাতে গরিব মানুষের সেই ঘর ভেঙে দিয়েছে।’
এরপর ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত বদলির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই, সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন, এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইল।’
এ সময় আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি (সংসদ সদস্য) আছি, আমার এলাকার মানুষকে আমি হয়রানি করতে দেব না। আমি এই আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমাকে ভোট দিয়েছে। অতএব, কাউকে আমি হয়রানির শিকার হতে দেব না।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়। আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে এখান থেকে তুলে নেবেন এবং একজন ভালো মানুষকে এখানে দায়িত্ব দেবেন।’
তবে মন্ত্রীর তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। ওই ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষার কাজ করব। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়া চালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে জমিতে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা সেই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।
আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই হলুদিয়া চালা বাজারের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্যত্র বদলি করতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নাজমুল আলমকে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফওকে এ কথা বলেন মন্ত্রী।
এর আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমি বন বিভাগকে দালালমুক্ত করব। বন বিভাগের যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খাবে এবং ঘুষ না পেলেই মানুষের নামে মামলা করবে, তাদেরকে দেখব।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) সবার আগে মামলায় ঝোলাব ঘুষখোর।’
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ডিএফও নাজমুল আলমকে ফোন করে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের সখীপুরের হলুদিয়া চালায় একটি টিনের দোকান ছিল। এখানে আপনার রেঞ্জার এমরান দালালদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। হয়তো তারা এখানে আগের চেয়ে একটু বড় করে ঘর দিয়েছিল। সেখানে আপনার রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান টাকা বেশি পায় নাই অথবা নিজের গা বাঁচাতে গরিব মানুষের সেই ঘর ভেঙে দিয়েছে।’
এরপর ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত বদলির কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই, সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন, এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইল।’
এ সময় আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি (সংসদ সদস্য) আছি, আমার এলাকার মানুষকে আমি হয়রানি করতে দেব না। আমি এই আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমাকে ভোট দিয়েছে। অতএব, কাউকে আমি হয়রানির শিকার হতে দেব না।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়। আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে এখান থেকে তুলে নেবেন এবং একজন ভালো মানুষকে এখানে দায়িত্ব দেবেন।’
তবে মন্ত্রীর তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। ওই ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষার কাজ করব। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়া চালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে জমিতে ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা সেই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।
আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই হলুদিয়া চালা বাজারের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন