ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মান্দায় বাক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাহীন নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার


এম এ মতিন
এম এ মতিন Manda Upazila Correspondent
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

মান্দায় বাক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাহীন নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার

নওগাঁর মান্দায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মো. শাহীন আলমকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানিক দল।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহীন আলম নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকমানিক গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
র‌্যাবের দেওয়া তথ্য ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ১৮ জুলাই দুপুরে মামাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মান্দা উপজেলার চকচুনাভপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান তিনি।
দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ও ছোট ভাই আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী বাড়ির বাইরে রাস্তায় গেলে অভিযুক্ত শাহীন আলম তাকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে রাস্তার পাশের বাঁশঝাড়ের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে যান। পরে তিনি নিজে গোসল করে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে আবার মামার বাড়িতে যান এবং সেখানে থাকা মা-বাবা ও মামাকে ঘটনার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার ১০ দিন পর, গত ২৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই শাহীন আলম পলাতক ছিলেন।
গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয়েছে
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তিনি মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অবশেষে র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নোয়াখালী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মান্দা থানায় হস্তান্তরের পর পরবর্তী কার্যক্রম জানানো হবে।”
র‌্যাব জানায়, আসামির অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের যৌথ অভিযানিক দল রোববার অভিযান চালায়। অভিযানে শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মান্দায় বাক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাহীন নোয়াখালীতে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মান্দায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ২৬ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মো. শাহীন আলমকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানিক দল।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানাধীন আমিশাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহীন আলম নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকমানিক গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
র‌্যাবের দেওয়া তথ্য ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ১৮ জুলাই দুপুরে মামাতো ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মান্দা উপজেলার চকচুনাভপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান তিনি।
দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ও ছোট ভাই আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী বাড়ির বাইরে রাস্তায় গেলে অভিযুক্ত শাহীন আলম তাকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে রাস্তার পাশের বাঁশঝাড়ের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে যান। পরে তিনি নিজে গোসল করে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে আবার মামার বাড়িতে যান এবং সেখানে থাকা মা-বাবা ও মামাকে ঘটনার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার ১০ দিন পর, গত ২৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই শাহীন আলম পলাতক ছিলেন।
গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয়েছে
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, “অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তিনি মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অবশেষে র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নোয়াখালী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মান্দা থানায় হস্তান্তরের পর পরবর্তী কার্যক্রম জানানো হবে।”
র‌্যাব জানায়, আসামির অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ক্যাম্পের যৌথ অভিযানিক দল রোববার অভিযান চালায়। অভিযানে শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ