ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাতিয়ায় যুবককে ৫০ বেত্রাঘাত


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাতিয়ায় যুবককে ৫০ বেত্রাঘাত
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে। তবে যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের এ ধরনের বিচার আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং ভুক্তভোগী শিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জানা গেছে, সালিশ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে শিশুটি পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। সে সময় শিশুটির সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে দোকানের বাইরে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করে বেরিয়ে এলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ শাস্তি কোনো আদালতের নির্দেশে নয়, স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন।

তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা এ দাবি নাকচ করে বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মী নন। সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। হেলাল উদ্দিনও তেমনভাবেই কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক সময় ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আসে না। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাতিয়ায় যুবককে ৫০ বেত্রাঘাত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হেলাল উদ্দিন নামে এক যুবককে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ৫০ বেত্রাঘাত ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে। তবে যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের এ ধরনের বিচার আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা এবং ভুক্তভোগী শিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। জানা গেছে, সালিশ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে শিশুটি পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। সে সময় শিশুটির সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে দোকানের বাইরে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হয়। শিশুটি চিৎকার করে বেরিয়ে এলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পান এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে এ শাস্তি কোনো আদালতের নির্দেশে নয়, স্থানীয় সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যকর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেনি। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগেরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে শুরু করেন।

তবে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা এ দাবি নাকচ করে বলেন, হেলাল উদ্দিন দলের কোনো সদস্য বা দায়িত্বশীল কর্মী নন। সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। হেলাল উদ্দিনও তেমনভাবেই কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশ বা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক সময় ঘটনাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের নজরে আসে না। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ