অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে ৫ আগস্ট রাজধানীর রাজপথ যখন হাজারো বিক্ষোভকারীর উপস্থিতিতে উত্তাল, তখনই দ্রুত বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিভিন্ন সামরিক সূত্রের দাবি, ওই দিন ভরদুপুরে সামরিক ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া ছিল কঠোর গোপনীয়তায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযান।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন দিক থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে গণভবনের দিকে জনস্রোত অগ্রসর হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বাণিজ্যমেলা সংলগ্ন এলাকায় অবতরণ করে। শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সেটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
সূত্রের দাবি, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল তিনটার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। একই সময়ে তেজগাঁও বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তায় উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক হেলিকপ্টারের উড্ডয়নের বিষয়টি ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
বিমানের ভেতরে অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, দুই কন্যা এবং জামাতা।
সূত্রগুলোর দাবি, হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলেন। তিনি আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত কর্মকর্তারা গণভবনমুখী জনস্রোত এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে সংক্ষেপে অবহিত করেন।
সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।
সূত্র আরও জানায়, বিমানের পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। আর কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একটি সামরিক সূত্রের দাবি, উদ্ধার অভিযানটি মূলত দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে সেখান থেকে সামরিক পরিবহন বিমানে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সূত্রটির দাবি, পুরো অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে ৫ আগস্ট রাজধানীর রাজপথ যখন হাজারো বিক্ষোভকারীর উপস্থিতিতে উত্তাল, তখনই দ্রুত বদলে যায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিভিন্ন সামরিক সূত্রের দাবি, ওই দিন ভরদুপুরে সামরিক ব্যবস্থাপনায় দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া ছিল কঠোর গোপনীয়তায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযান।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সকাল ১০টার পর রাজধানীর বিভিন্ন দিক থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে গণভবনের দিকে জনস্রোত অগ্রসর হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বাণিজ্যমেলা সংলগ্ন এলাকায় অবতরণ করে। শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে সেটি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে।
সূত্রের দাবি, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল তিনটার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে। একই সময়ে তেজগাঁও বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বেতার বার্তায় উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে সামরিক হেলিকপ্টারের উড্ডয়নের বিষয়টি ঢাকা ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানানো হয়।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
বিমানের ভেতরে অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনার তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আত্মীয় মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, দুই কন্যা এবং জামাতা।
সূত্রগুলোর দাবি, হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময় কথা বলেন। তিনি আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। উপস্থিত কর্মকর্তারা গণভবনমুখী জনস্রোত এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে সংক্ষেপে অবহিত করেন।
সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে।
সূত্র আরও জানায়, বিমানের পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। আর কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বর্তমানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
একটি সামরিক সূত্রের দাবি, উদ্ধার অভিযানটি মূলত দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় ধাপে সেখান থেকে সামরিক পরিবহন বিমানে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সূত্রটির দাবি, পুরো অভিযানের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মান্নাফি।

আপনার মতামত লিখুন