ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৫ আগস্টের ফ্লাইটের নেপথ্যে কারা ছিলেন? সামনে এলো পাইলটদের পরিচয়


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

৫ আগস্টের ফ্লাইটের নেপথ্যে কারা ছিলেন? সামনে এলো পাইলটদের পরিচয়
ছবি: সংগৃহীত

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন এখনও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি হয়ে ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যাত্রায় কোন পাইলটরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তারা বর্তমানে কোথায় কর্মরত, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস। কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে।

সূত্রের দাবি, দেশত্যাগের ঘটনার কিছুদিন পর এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। কোর্স শেষে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে ওসি (অ্যাডমিন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত ছিল। পরে শেখ হাসিনা ওই বিমানে উঠে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

সূত্র আরও দাবি করেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করে বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। বর্তমানে কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সামরিক সূত্রের দাবি।

তবে এসব তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


৫ আগস্টের ফ্লাইটের নেপথ্যে কারা ছিলেন? সামনে এলো পাইলটদের পরিচয়

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন এখনও আলোচনায় রয়েছে। বিশেষ করে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি হয়ে ভারতের দিল্লির হিন্দন বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যাত্রায় কোন পাইলটরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তারা বর্তমানে কোথায় কর্মরত, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভবন থেকে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস। কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। বিকেল ৩টার দিকে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে অবতরণ করে।

সূত্রের দাবি, দেশত্যাগের ঘটনার কিছুদিন পর এয়ার কমোডর আব্বাসকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে পাকিস্তানে পাঠানো হয়। কোর্স শেষে দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের এয়ার হেডকোয়ার্টার ইউনিটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, কো-পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির বর্তমানে বাশার এয়ার বেইজে ওসি (অ্যাডমিন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

কুর্মিটোলা এয়ার বেইজে আগে থেকেই ইঞ্জিন চালু অবস্থায় একটি সি-১৩০ জুলিয়েট সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত ছিল। পরে শেখ হাসিনা ওই বিমানে উঠে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর শামীম রেজা এবং কো-পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার মাহফুজ। বিমানটি ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

সূত্র আরও দাবি করেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে উড্ডয়নের সময় বিমানের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রচলিত রুটের পরিবর্তে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করে বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। পরে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর একই বিমান ক্রু ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে পাইলট এয়ার কমোডর শামীম রেজাকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। বর্তমানে কো-পাইলট উইং কমান্ডার মাহফুজ বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা পরিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সামরিক সূত্রের দাবি।

তবে এসব তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ