ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জুলাই দমনে অভিযুক্ত ৪১ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

জুলাই দমনে অভিযুক্ত ৪১ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন দমন, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে দায়িত্ব পালনকারী রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ১১৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪১ জন এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেককে পুলিশ সদর দপ্তর, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশ একাডেমি সারদা, ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের বেশি এখনো কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন আন্দোলন-সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন।

অন্যদিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ জন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এছাড়া ৫৭ জনকে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো, কাউকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

এসপিদের বড় অংশ এখনো কর্মরত

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্বে থাকা ৭৭ জন পুলিশ সুপারের (এসপি) মধ্যে ৩৫ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ ওই সময় দায়িত্বে থাকা প্রায় ৪৫ শতাংশ এসপি এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

অন্যদিকে ৪২ জন এসপির বিরুদ্ধে বরখাস্ত, সংযুক্তকরণসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় পলাতক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

কমিশনার ও ডিআইজিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

গত দুই বছরে আটটি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তিন ডিআইজি ও একজন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বে ৩৫ এসপি

তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারী ৩৫ জন এসপি বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন, সিআইডি, পিবিআই, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ টেলিকম, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, পুলিশ স্টাফ কলেজসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পদোন্নতিও পেয়েছেন।

দায়িত্বে রয়েছেন ছয় অতিরিক্ত ডিআইজি

আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ পুলিশ সদর দপ্তরে, কেউ ডিএমপিতে, আবার কেউ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও নৌ পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।

বরখাস্ত ১১ এসপি, কারাগারে তিনজন

জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা এসপিদের মধ্যে ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নোয়াখালীর সাবেক এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার সাবেক এসপি আব্দুল মান্নান এবং বাগেরহাটের সাবেক এসপি আবুল হাসনাত খান।

যা বললেন অতিরিক্ত আইজিপি

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন বলেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জুলাই দমনে অভিযুক্ত ৪১ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলন দমন, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে দায়িত্ব পালনকারী রেঞ্জ, মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ১১৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪১ জন এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। অনেককে পুলিশ সদর দপ্তর, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশ একাডেমি সারদা, ট্রেনিং সেন্টারসহ বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩৫ শতাংশের বেশি এখনো কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন আন্দোলন-সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীর ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করছেন।

অন্যদিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭ জন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এছাড়া ৫৭ জনকে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কাউকে অবসরে পাঠানো, কাউকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের বাইরে অবস্থানরত পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।

এসপিদের বড় অংশ এখনো কর্মরত

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্বে থাকা ৭৭ জন পুলিশ সুপারের (এসপি) মধ্যে ৩৫ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ ওই সময় দায়িত্বে থাকা প্রায় ৪৫ শতাংশ এসপি এখনো স্বাভাবিক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।

অন্যদিকে ৪২ জন এসপির বিরুদ্ধে বরখাস্ত, সংযুক্তকরণসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ তালিকায় পলাতক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

কমিশনার ও ডিআইজিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

গত দুই বছরে আটটি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং আটটি রেঞ্জের ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আট কমিশনার ও ছয় ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তিন ডিআইজি ও একজন কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। বাকিদের বিভিন্ন কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বে ৩৫ এসপি

তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকারী ৩৫ জন এসপি বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন, সিআইডি, পিবিআই, রেলওয়ে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ টেলিকম, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, পুলিশ স্টাফ কলেজসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পদোন্নতিও পেয়েছেন।

দায়িত্বে রয়েছেন ছয় অতিরিক্ত ডিআইজি

আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত ডিআইজিদের মধ্যে ছয়জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ পুলিশ সদর দপ্তরে, কেউ ডিএমপিতে, আবার কেউ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ও নৌ পুলিশে কর্মরত রয়েছেন।

বরখাস্ত ১১ এসপি, কারাগারে তিনজন

জুলাই আন্দোলনের সময় দায়িত্বে থাকা এসপিদের মধ্যে ১১ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নোয়াখালীর সাবেক এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার সাবেক এসপি আব্দুল মান্নান এবং বাগেরহাটের সাবেক এসপি আবুল হাসনাত খান।

যা বললেন অতিরিক্ত আইজিপি

অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন বলেন, "ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ