ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বেনজীরকে ফেরাতে যা করার করেছি, দাবি দুদকের


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬

বেনজীরকে ফেরাতে যা করার করেছি, দাবি দুদকের
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সংস্থাটির কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের মুক্তির খবর দুদকও গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করা হবে।

মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, “আপনারা যেভাবে গণমাধ্যমে জেনেছেন, আমরাও সেভাবেই জেনেছি। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট বিভাগ গ্রহণ করবে।”

দুদকের কোনো অবহেলা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধান ও প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। দুদক প্রয়োজনীয় সব নথি ও প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন ছিল, সবই করা হয়েছে।”

বেনজীর আহমেদকে কোন ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা ইন্টারপোলের কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালে তার ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এলে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশকে জানায় ইউএইর আবুধাবিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। গত ১২ জুন পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত সংস্থার প্রস্তুত করা গ্রেফতারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র ও অপরাধের বিবরণ সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বেনজীরকে ফেরাতে যা করার করেছি, দাবি দুদকের

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সংস্থাটির কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের মুক্তির খবর দুদকও গণমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করা হবে।

মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, “আপনারা যেভাবে গণমাধ্যমে জেনেছেন, আমরাও সেভাবেই জেনেছি। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট বিভাগ গ্রহণ করবে।”

দুদকের কোনো অবহেলা ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধান ও প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। দুদক প্রয়োজনীয় সব নথি ও প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন ছিল, সবই করা হয়েছে।”

বেনজীর আহমেদকে কোন ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক বলেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ কিংবা ইন্টারপোলের কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালে তার ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে এলে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের হয় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের নির্দেশ দেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা এবং দুই মেয়ের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোতে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তীতে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি বাংলাদেশকে জানায় ইউএইর আবুধাবিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। গত ১২ জুন পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, তাকে প্রত্যর্পণের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, তদন্ত সংস্থার প্রস্তুত করা গ্রেফতারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র ও অপরাধের বিবরণ সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ