ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কটিয়াদীতে পাটের আবাদ বেড়েছে, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকেরা



কটিয়াদীতে পাটের আবাদ বেড়েছে, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকেরা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাট প্রতি মণ গড়ে ৪ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক নিম্নমানের পাটের দাম মিলছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ। কৃষকদের ধারণা, পাট কিছুদিন সংরক্ষণ করলে দাম আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কটিয়াদীতে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রায় সব এলাকাতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় পতিত পড়ে থাকা অনেক জমিতেও এবার পাটের চাষ হয়েছে। ধান চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে পাট চাষে ঝুঁকেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামসহ মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন পাট শুকানোর ব্যস্ততা চলছে। কোথাও কৃষকেরা জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। রাস্তার পাশে শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বিভিন্ন জলাশয়ের ধারে শ্রমিকেরা পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত। পাশাপাশি কটিয়াদী পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাটের মোকামগুলোতেও নতুন পাটের আগমন শুরু হয়েছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, “এবার দুই একর জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে প্রায় ৪৫ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, “বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো পাটকেও নিম্নমানের বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।”

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, “ভালো মানের পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। এখনো পুরোপুরি পাট বাজারে ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করা গেলে ব্যবসা আরও ভালো হবে। দীর্ঘদিন গুদামে পাট জমে থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে হয়।”

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা জানান, বর্তমানে তোষা পাট প্রকারভেদে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই। তিনি বলেন, মিল মালিকরা সময়মতো নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের পাট কেনাবেচা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও শক্তিশালী হবে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে অনেক কৃষক কম ও অপরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় আঁশের মান কিছুটা কমে যায়। তিনি স্বচ্ছ ও পর্যাপ্ত পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে পাটের গুণগত মান আরও উন্নত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কটিয়াদীতে পাটের আবাদ বেড়েছে, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকেরা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর পাটের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমান মূল্য পরিস্থিতি বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ভালো মানের পাট প্রতি মণ গড়ে ৪ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক নিম্নমানের পাটের দাম মিলছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ। কৃষকদের ধারণা, পাট কিছুদিন সংরক্ষণ করলে দাম আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কটিয়াদীতে ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রায় সব এলাকাতেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় পতিত পড়ে থাকা অনেক জমিতেও এবার পাটের চাষ হয়েছে। ধান চাষে লোকসানের অভিজ্ঞতার কারণে অনেক কৃষক বিকল্প হিসেবে পাট চাষে ঝুঁকেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামসহ মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন পাট শুকানোর ব্যস্ততা চলছে। কোথাও কৃষকেরা জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কোথাও জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন। রাস্তার পাশে শুকানো হচ্ছে পাট ও পাটকাঠি। বিভিন্ন জলাশয়ের ধারে শ্রমিকেরা পচানো পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত। পাশাপাশি কটিয়াদী পুরাতন বাজারের ঐতিহ্যবাহী পাটের মোকামগুলোতেও নতুন পাটের আগমন শুরু হয়েছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া বলেন, “এবার দুই একর জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জমিতে প্রায় ৪৫ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করতে পারলে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম বলেন, “বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছুদিন পর দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। তবে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো পাটকেও নিম্নমানের বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।”

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, “ভালো মানের পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ১০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। এখনো পুরোপুরি পাট বাজারে ওঠেনি। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করা গেলে ব্যবসা আরও ভালো হবে। দীর্ঘদিন গুদামে পাট জমে থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে হয়।”

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা জানান, বর্তমানে তোষা পাট প্রকারভেদে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই। তিনি বলেন, মিল মালিকরা সময়মতো নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের পাট কেনাবেচা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরও শক্তিশালী হবে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর উপজেলায় পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে এবং কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন। তবে অনেক কৃষক কম ও অপরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় আঁশের মান কিছুটা কমে যায়। তিনি স্বচ্ছ ও পর্যাপ্ত পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে পাটের গুণগত মান আরও উন্নত হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ