সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা সোনারভিটা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ মিয়া (পলাতক), একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে মো. রমজান আলী এবং ভাটিয়াবাড়ি এলাকার শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। গভীর রাতে ট্রাকটি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে মোটরসাইকেলে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আসামিরা।
পরদিন ২২ আগস্ট রাত প্রায় ৩টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীনন্দর সিংকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৯৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আদালতের এ রায় সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক এস. এম. শফিকুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন পাটগ্রাম উপজেলার উফারমারা সোনারভিটা এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সবুজ মিয়া (পলাতক), একই উপজেলার হাদীসপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলী ওরফে বুলুর ছেলে মো. রমজান আলী এবং ভাটিয়াবাড়ি এলাকার শামছুল হক ওরফে সামছুর রহমানের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে তানজিদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুড়িমারী সড়কে আটকে যায়। গভীর রাতে ট্রাকটি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে ভারতীয় ট্রাকচালক লক্ষ্মীনন্দর সিংকে মোটরসাইকেলে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আসামিরা।
পরদিন ২২ আগস্ট রাত প্রায় ৩টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর ভোটবাড়ী এলাকায় নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তার কাছে থাকা ৮ হাজার ভারতীয় রুপি ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরে টহল পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় লক্ষ্মীনন্দর সিংকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩৯৪ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ মিয়া শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিককে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আদালতের এ রায় সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

আপনার মতামত লিখুন