ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের দুই দিন পর রোববার (২৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে তার গাড়িবহর বের হয়ে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১৮টি গাড়ি বহরে ছিল। প্রায় ৩ বছর ৪ মাস বঙ্গভবনে বসবাসের পর তিনি আবারও নিজের গুলশানের বাসভবনে ফিরে গেলেন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর থেকেই সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। একই সঙ্গে কৌতূহলী মানুষও বঙ্গভবনের সামনে জড়ো হন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে, পদত্যাগের পর থেকেই গুলশানের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটেই বসবাস করতেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব ছাড়ার পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

এর আগে শনিবার এক টেলিফোন আলাপে তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে খুব শিগগিরই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ, তাই চিকিৎসার জন্য তাকেও সঙ্গে নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারির পর তিনি অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি আরও জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাসভবনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে বাসভবনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধান অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের দুই দিন পর রোববার (২৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন থেকে তার গাড়িবহর বের হয়ে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১৮টি গাড়ি বহরে ছিল। প্রায় ৩ বছর ৪ মাস বঙ্গভবনে বসবাসের পর তিনি আবারও নিজের গুলশানের বাসভবনে ফিরে গেলেন। যদিও সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুর থেকেই সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় দেখা যায়। একই সঙ্গে কৌতূহলী মানুষও বঙ্গভবনের সামনে জড়ো হন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

অন্যদিকে, পদত্যাগের পর থেকেই গুলশানের বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটেই বসবাস করতেন।

মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব ছাড়ার পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

এর আগে শনিবার এক টেলিফোন আলাপে তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে খুব শিগগিরই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ, তাই চিকিৎসার জন্য তাকেও সঙ্গে নেওয়া হবে।

গত শুক্রবার ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারির পর তিনি অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

তিনি আরও জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েক দিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাসভবনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। একই সঙ্গে বাসভবনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধান অনুযায়ী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ