ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, সত্য অনুসন্ধানী হতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, সত্য অনুসন্ধানী হতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এ সাংবাদিকতার বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মতামত, অনুমান কিংবা অ্যাক্টিভিজম দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না। প্রকৃত সাংবাদিকতা পরিচালিত হয় বস্তুনিষ্ঠ সত্য, উপাত্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত সম্মেলনের ‘দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়?’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মণি দীক্ষিত, সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম এবং দ্য হিন্দু–এর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার। সঞ্চালনা করেন নেত্র নিউজের এক্সিকিউটিভ এডিটর নাজমুল আহসান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা একজন স্বাধীন সাংবাদিকের চিন্তাভাবনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে সেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয় তখনই, যখন সংবাদ উপস্থাপনে তথ্যের নির্ভুলতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ প্রায় একই ধরনের। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, মোবাইল সাংবাদিকতার বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং বিভ্রান্তি প্রতিরোধ করা এখন গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতার কোনো একক সংজ্ঞা নেই। সমাজে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কখনোই অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকায় যাওয়া উচিত নয়। উপাত্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো ধারণা বা অনুমান সংবাদ হতে পারে না।

আলোচনায় শফিকুল আলম বলেন, ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যম ও নিউজরুমগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিভাজনের মুখে পড়েছে। সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চাপ, প্রভাব এবং আনুগত্যের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে সংবাদপত্র বন্ধ বা সেন্সরশিপের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হতো। এখন সেই জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংবাদকক্ষ ও সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার প্রবণতা বেড়েছে।

টেক্সটভিত্তিক সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, প্রিন্ট বা টেক্সট সাংবাদিকতার অর্থনৈতিক ভিত্তি আগের মতো শক্তিশালী নেই। মানুষের পাঠাভ্যাস বদলে যাওয়ায় ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্ট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্যানেল আলোচনায় সুহাসিনী হায়দার বলেন, সাংবাদিকদের কখনোই সরকার বা ক্ষমতাসীনদের মুখপাত্র হওয়া উচিত নয়। একইভাবে তারা কোনো আন্দোলনের কর্মীও নন। সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান করা এবং মানুষকে তথ্যসমৃদ্ধ রাখা। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং জনস্বার্থে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা।

দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু সীমান্ত বা ভূ-রাজনীতি নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচার এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তারও সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, সত্য অনুসন্ধানী হতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’-এ সাংবাদিকতার বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মতামত, অনুমান কিংবা অ্যাক্টিভিজম দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না। প্রকৃত সাংবাদিকতা পরিচালিত হয় বস্তুনিষ্ঠ সত্য, উপাত্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত সম্মেলনের ‘দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়?’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মণি দীক্ষিত, সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম এবং দ্য হিন্দু–এর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার। সঞ্চালনা করেন নেত্র নিউজের এক্সিকিউটিভ এডিটর নাজমুল আহসান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা একজন স্বাধীন সাংবাদিকের চিন্তাভাবনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। তবে সেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয় তখনই, যখন সংবাদ উপস্থাপনে তথ্যের নির্ভুলতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ প্রায় একই ধরনের। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, মোবাইল সাংবাদিকতার বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা এবং বিভ্রান্তি প্রতিরোধ করা এখন গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার সংজ্ঞা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতার কোনো একক সংজ্ঞা নেই। সমাজে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে ব্যক্তিগত আবেগ বা পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের কখনোই অ্যাক্টিভিস্টের ভূমিকায় যাওয়া উচিত নয়। উপাত্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো ধারণা বা অনুমান সংবাদ হতে পারে না।

আলোচনায় শফিকুল আলম বলেন, ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যম ও নিউজরুমগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিভাজনের মুখে পড়েছে। সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চাপ, প্রভাব এবং আনুগত্যের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে সংবাদপত্র বন্ধ বা সেন্সরশিপের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হতো। এখন সেই জায়গায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংবাদকক্ষ ও সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার প্রবণতা বেড়েছে।

টেক্সটভিত্তিক সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, প্রিন্ট বা টেক্সট সাংবাদিকতার অর্থনৈতিক ভিত্তি আগের মতো শক্তিশালী নেই। মানুষের পাঠাভ্যাস বদলে যাওয়ায় ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্ট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

প্যানেল আলোচনায় সুহাসিনী হায়দার বলেন, সাংবাদিকদের কখনোই সরকার বা ক্ষমতাসীনদের মুখপাত্র হওয়া উচিত নয়। একইভাবে তারা কোনো আন্দোলনের কর্মীও নন। সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য অনুসন্ধান করা এবং মানুষকে তথ্যসমৃদ্ধ রাখা। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতা বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং জনস্বার্থে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা।

দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু সীমান্ত বা ভূ-রাজনীতি নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, প্রযুক্তিনির্ভর অপপ্রচার এবং ভুয়া তথ্যের বিস্তারও সমানভাবে উদ্বেগের বিষয়। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ