একটু মুক্ত বাতাস, হাওরের নীল জলরাশি আর বিশাল আকাশের নিচে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তাদের চোখে। ছুটির দিনের সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে একদল ভ্রমণপিপাসু মানুষ রওনা হয়েছিলেন নিকলী হাওরের উদ্দেশ্যে। গান, আড্ডা আর আনন্দের আমেজে পথ কাটছিল অনায়াসেই। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দের ছটা মুহূর্তে রূপ নিল কান্না, আর্তনাদ আর রক্তভেজা বিভীষিকায়।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন মাইক্রোবাস চালক। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন গাড়িতে থাকা একাধিক যাত্রী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা নিকলী হাওরগামী মাইক্রোবাসটির সরাসরি ও বিকট শব্দে সংঘর্ষ হয়। ঘটনার তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি যানবাহনই ধুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর পরই চারপাশের শান্ত পরিবেশ ছেয়ে যায় বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার আর আহতদের কোঁকড়ানিতে। বিকট শব্দ শুনে চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা কোনো কিছুর পরোয়া না করে দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থেকে রক্তাক্ত যাত্রীদের উদ্ধার কাজে হাত দেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে চালকের আসনটি একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই স্টিয়ারিংয়ে আটকে প্রাণ হারান চালক। চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার সর্বনিম্ন সুযোগটুকুও পাননি তিনি। পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস ও বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধার করে তাঁদের দ্রুত স্থানীয় পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, "ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাস চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা নিহত চালকের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য সিআইডির ফরেনসিক টিমসহ প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি।" তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল—দুটি গাড়ির কার গতি বেশি ছিল বা কার ড্রাইভিংয়ে ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ছুটির সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় এক বিষাদময় শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। যে যাত্রীরা মিষ্টি রোদের আলো আর হাওরের হাওয়ায় ডানা মেলার স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়েছিলেন, হাসপাতাল থেকে এখন তাঁদের স্বজনদের কাছে পৌঁছাচ্ছে একের পর এক বুকভাঙা কান্নার খবর। জীবনের হিসাব এমন আচমকা থেমে যাওয়ার বেদনা যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
একটু মুক্ত বাতাস, হাওরের নীল জলরাশি আর বিশাল আকাশের নিচে হারিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তাদের চোখে। ছুটির দিনের সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে একদল ভ্রমণপিপাসু মানুষ রওনা হয়েছিলেন নিকলী হাওরের উদ্দেশ্যে। গান, আড্ডা আর আনন্দের আমেজে পথ কাটছিল অনায়াসেই। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দের ছটা মুহূর্তে রূপ নিল কান্না, আর্তনাদ আর রক্তভেজা বিভীষিকায়।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন মাইক্রোবাস চালক। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন গাড়িতে থাকা একাধিক যাত্রী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা নিকলী হাওরগামী মাইক্রোবাসটির সরাসরি ও বিকট শব্দে সংঘর্ষ হয়। ঘটনার তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুটি যানবাহনই ধুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর পরই চারপাশের শান্ত পরিবেশ ছেয়ে যায় বাঁচাও-বাঁচাও চিৎকার আর আহতদের কোঁকড়ানিতে। বিকট শব্দ শুনে চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা কোনো কিছুর পরোয়া না করে দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি থেকে রক্তাক্ত যাত্রীদের উদ্ধার কাজে হাত দেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে চালকের আসনটি একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই স্টিয়ারিংয়ে আটকে প্রাণ হারান চালক। চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার সর্বনিম্ন সুযোগটুকুও পাননি তিনি। পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস ও বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধার করে তাঁদের দ্রুত স্থানীয় পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, "ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাস চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা নিহত চালকের পরিচয় নিশ্চিতের জন্য সিআইডির ফরেনসিক টিমসহ প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি।" তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল—দুটি গাড়ির কার গতি বেশি ছিল বা কার ড্রাইভিংয়ে ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
ছুটির সকালে ঘটা এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা পুরো এলাকায় এক বিষাদময় শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। যে যাত্রীরা মিষ্টি রোদের আলো আর হাওরের হাওয়ায় ডানা মেলার স্বপ্ন নিয়ে বেরিয়েছিলেন, হাসপাতাল থেকে এখন তাঁদের স্বজনদের কাছে পৌঁছাচ্ছে একের পর এক বুকভাঙা কান্নার খবর। জীবনের হিসাব এমন আচমকা থেমে যাওয়ার বেদনা যেন মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

আপনার মতামত লিখুন