ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘৫ মে’র নৃশংসতা থেকেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বীজ’: মঞ্জু


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬

‘৫ মে’র নৃশংসতা থেকেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বীজ’: মঞ্জু
ছবি: সংগৃহীত

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ও বেদনা নিয়ে ঘরে বসে ছিলেন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শাসকগোষ্ঠীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ।

বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, স্বাধীনতার পর পরাজিত শক্তির একটি অংশ দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। একইভাবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের একটি অংশ দেশে থেকে সেই রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন। যদিও আলেম সমাজ সাধারণত দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে না, তবু দেশের সংকটময় সময়ে তারা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আলেম সমাজ আপসহীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সময় বৃহত্তর সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, এরপর সরকারবিরোধী কণ্ঠ দমনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ আরও সুগম হয়েছিল।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যুক্ত হন। পরবর্তীতে নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াদের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

সভায় খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ রোধে কাঠামোগত সংস্কার এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনাবিন্দু হিসেবে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের ইস্যু ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে ছিল।

ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘৫ মে’র নৃশংসতা থেকেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বীজ’: মঞ্জু

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনার সময় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ ও বেদনা নিয়ে ঘরে বসে ছিলেন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শাসকগোষ্ঠীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ, ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ।

বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, স্বাধীনতার পর পরাজিত শক্তির একটি অংশ দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। একইভাবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের একটি অংশ দেশে থেকে সেই রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন। যদিও আলেম সমাজ সাধারণত দলীয় রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে না, তবু দেশের সংকটময় সময়ে তারা বারবার নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আলেম সমাজ আপসহীন। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সময় বৃহত্তর সমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, এরপর সরকারবিরোধী কণ্ঠ দমনের মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথ আরও সুগম হয়েছিল।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, পরে কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যুক্ত হন। পরবর্তীতে নারী-পুরুষ, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াদের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

সভায় খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ রোধে কাঠামোগত সংস্কার এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকেই তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনাবিন্দু হিসেবে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গিবাদের ইস্যু ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে ছিল।

ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রত্যক্ষ স্বার্থ না থাকলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান বলেন, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ