কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নে কুড়িখাঁই নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর রেলিং ও পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্চে। সেতুটি স্বাধীনতার আগে কুড়িখাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী স্থানীয় কিছু নিরীহ লোককে ধরে এনে সেতুর ওপর দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়,উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজার সংলগ্ন এই সেতুটির রেলিং অনেক আগেই ধসে পড়েছে। পিলারের পলেস্তারা ও ইট খসে কঙ্কালসার অবস্থা তৈরি হয়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুটি পথচারীদের জন্য 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে।
এই সেতু দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, পাড়া মন্ডলভোগ, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল ও মুমুরদিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। এ ছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দুইটি রিকশা অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু ছোট গাড়ি কোনো রকম পার হতে পারে। নেই দুই পাশে রেলিং, পিলারের ইট খসে পড়ছে। সেতুর মাঝখান থেকে কিছু অংশ ভেঙে পড়ে গেছে। একটি বাঁশের টুকরায় লাল কাপড় বেঁধে বিপদ সংকেত দেওয়া আছে। এই সেতুর ওপর দিয়েই দুই এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ছাত্রছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রতিদিন।
মুমুরদিয়া ইউপির বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের দুর্ভোগের শেষ হয় না। একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর আবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি। থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
চারিয়া গ্রামের রবিন মিয়া জানান,ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। অনেক বৃদ্ধ সেতুর কাছে এসে ফিরে যান। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে ভাঙা সেতু পার করতে হয়।
শিক্ষার্থী মাসুম মিয়া বলেন, 'সেতুটা ভালো থাকতে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে কলেজে চলে যেতে পারতাম। এখন অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে।
সিএনজি চালক আহমেদ মিয়া বলেন, দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, "সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করে কারিগরি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নে কুড়িখাঁই নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর রেলিং ও পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্চে। সেতুটি স্বাধীনতার আগে কুড়িখাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়। যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী স্থানীয় কিছু নিরীহ লোককে ধরে এনে সেতুর ওপর দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়,উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের শিবনাথ সাহার বাজার সংলগ্ন এই সেতুটির রেলিং অনেক আগেই ধসে পড়েছে। পিলারের পলেস্তারা ও ইট খসে কঙ্কালসার অবস্থা তৈরি হয়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুটি পথচারীদের জন্য 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে।
এই সেতু দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, পাড়া মন্ডলভোগ, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল ও মুমুরদিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। এ ছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। দুইটি রিকশা অতিক্রম করতে পারে। কিন্তু ছোট গাড়ি কোনো রকম পার হতে পারে। নেই দুই পাশে রেলিং, পিলারের ইট খসে পড়ছে। সেতুর মাঝখান থেকে কিছু অংশ ভেঙে পড়ে গেছে। একটি বাঁশের টুকরায় লাল কাপড় বেঁধে বিপদ সংকেত দেওয়া আছে। এই সেতুর ওপর দিয়েই দুই এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ছাত্রছাত্রীসহ হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে প্রতিদিন।
মুমুরদিয়া ইউপির বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু আমাদের দুর্ভোগের শেষ হয় না। একটি সেতুর জন্য বছরের পর বছর আবেদন করেও কোনো সুফল পাইনি। থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
চারিয়া গ্রামের রবিন মিয়া জানান,ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। অনেক বৃদ্ধ সেতুর কাছে এসে ফিরে যান। রাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে করে ভাঙা সেতু পার করতে হয়।
শিক্ষার্থী মাসুম মিয়া বলেন, 'সেতুটা ভালো থাকতে আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে কলেজে চলে যেতে পারতাম। এখন অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে।
সিএনজি চালক আহমেদ মিয়া বলেন, দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক। তা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. এহেতেশামুল হক বলেন, "সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমরা জানি। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি পরিদর্শন করে কারিগরি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন