ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে জালিয়াতি, বিপুল আলামতসহ গ্রেপ্তার ৭


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে জালিয়াতি, বিপুল আলামতসহ গ্রেপ্তার ৭
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠিয়ে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত সিল, একটি এম্বুস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) সদস্যরা চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।

যেভাবে প্রতারণার শিকার হন ভুক্তভোগী

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী এক নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতালির দূতাবাসে জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে এবং তার পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেয়। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এই আশায় তিনি দুই দফায় মোট চার লাখ ৪০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে পাঠান।

বিমানবন্দরে গিয়ে প্রকাশ পায় ভয়াবহ জালিয়াতি

পরবর্তীতে সন্তানদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিল অন্য এক নারী ইতোমধ্যেই ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে যা জানা গেছে

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি। পরে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটির মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

বর্তমানে জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশগামীদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট বা অর্থ হস্তান্তর করা উচিত নয়। ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের কোনো সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে জালিয়াতি, বিপুল আলামতসহ গ্রেপ্তার ৭

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠিয়ে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত সিল, একটি এম্বুস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ আড়াই লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ২০ জুলাই রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) সদস্যরা চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।

যেভাবে প্রতারণার শিকার হন ভুক্তভোগী

সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী এক নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতালির দূতাবাসে জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের সময় নাজমুল হাসান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গুলশানের একটি ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ভিসা করে দেওয়ার নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে এবং তার পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেয়। ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এই আশায় তিনি দুই দফায় মোট চার লাখ ৪০ হাজার টাকা অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে পাঠান।

বিমানবন্দরে গিয়ে প্রকাশ পায় ভয়াবহ জালিয়াতি

পরবর্তীতে সন্তানদের নিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে গত ২৪ এপ্রিল অন্য এক নারী ইতোমধ্যেই ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করলে তদন্ত শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে যা জানা গেছে

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার আগ্রহী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি। পরে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটির মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।

বর্তমানে জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশগামীদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সিআইডি জানিয়েছে, বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পাসপোর্ট বা অর্থ হস্তান্তর করা উচিত নয়। ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের কোনো সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সিআইডিকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ