ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পানির স্রোতে ভেসে গেল আশুড়ার বিলের বাঁশের তৈরি সাঁকো খানপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি


বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি
বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬

পানির স্রোতে ভেসে গেল আশুড়ার বিলের বাঁশের তৈরি সাঁকো খানপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি

টানা ভারী বর্ষণ ও পানির স্রোতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আশুড়ার বিলের একটি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো ভেসে গেছে। এতে করে বিলের দুই পাড়ের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। যাতায়াত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে একটি নতুন সাঁকো বা স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

‎‎শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বিপাকে কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে। 

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার দিঘলচাঁদ এলাকার লালঘাট আশুড়ার বিলের ওপর দিয়ে দুই পারের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকোটি। প্রায় ২১০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোটি ব্যবহার করে প্রতিদিন দিঘলচাঁদসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও দিনমজুরেরা যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে ধানজুড়ি মিশন স্কুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মা  প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে সাইকেল ও ভ্যানে করে বিদ্যালয়ে ও বাজারে চিকিৎসার জন্য  যাতায়াত করতে হয়।

‎‎গত ১২জুলাই (রবিবার ) অঞ্চলটিতে দিনভর ভারী বৃষ্টিপাত হয়। আজ ১৩ জুলাই সকাল চলমান বৃষ্টির পর বিলের পানির উচ্চতা ও স্রোত তীব্র আকার ধারণ করলে একপর্যায়ে ২১০ ফুট লম্বা সাঁকোটি পানির স্রোতে সম্পূর্ণ ভেসে যায়। সাঁকোটি হারিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার মানুষের পারাপার একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

‎‎বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট লিখিত আবেদন

‎সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে এবং দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দিঘলচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা কমল চন্দ্র সরকার এলাকাবাসীর পক্ষে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

‎‎আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তায় সাঁকোটি পুনরায় টেনে তোলার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

‎‎এলাকাবাসীর বক্তব্য:

‎”বাঁশের সাঁকোটিই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এটি ভেসে যাওয়ায় আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না, আমরা হাটে ফসল নিয়ে যেতে পারছি না। প্রতি বছর এভাবে সাঁকো ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা দিনাজপুর-০৬ আসনের এমপি মাননীয় মন্ত্রী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিকট একটি স্থায়ী ব্রিজের জোর দাবি জানাচ্ছি।”


‎উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পানির স্রোতে ভেসে গেল আশুড়ার বিলের বাঁশের তৈরি সাঁকো খানপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের চরম ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারী বর্ষণ ও পানির স্রোতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আশুড়ার বিলের একটি দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো ভেসে গেছে। এতে করে বিলের দুই পাড়ের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। যাতায়াত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে একটি নতুন সাঁকো বা স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

‎‎শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, বিপাকে কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে। 

‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার দিঘলচাঁদ এলাকার লালঘাট আশুড়ার বিলের ওপর দিয়ে দুই পারের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকোটি। প্রায় ২১০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোটি ব্যবহার করে প্রতিদিন দিঘলচাঁদসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক ও দিনমজুরেরা যাতায়াত করতেন। বিশেষ করে ধানজুড়ি মিশন স্কুলের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মা  প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে সাইকেল ও ভ্যানে করে বিদ্যালয়ে ও বাজারে চিকিৎসার জন্য  যাতায়াত করতে হয়।

‎‎গত ১২জুলাই (রবিবার ) অঞ্চলটিতে দিনভর ভারী বৃষ্টিপাত হয়। আজ ১৩ জুলাই সকাল চলমান বৃষ্টির পর বিলের পানির উচ্চতা ও স্রোত তীব্র আকার ধারণ করলে একপর্যায়ে ২১০ ফুট লম্বা সাঁকোটি পানির স্রোতে সম্পূর্ণ ভেসে যায়। সাঁকোটি হারিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকার মানুষের পারাপার একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

‎‎বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট লিখিত আবেদন

‎সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে এবং দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দিঘলচাঁদ গ্রামের বাসিন্দা কমল চন্দ্র সরকার এলাকাবাসীর পক্ষে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

‎‎আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তায় সাঁকোটি পুনরায় টেনে তোলার বা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

‎‎এলাকাবাসীর বক্তব্য:

‎”বাঁশের সাঁকোটিই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। এটি ভেসে যাওয়ায় আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না, আমরা হাটে ফসল নিয়ে যেতে পারছি না। প্রতি বছর এভাবে সাঁকো ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা দিনাজপুর-০৬ আসনের এমপি মাননীয় মন্ত্রী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিকট একটি স্থায়ী ব্রিজের জোর দাবি জানাচ্ছি।”


‎উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ