পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রোয়াংছড়ি-বান্দরবান প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় এবং পাহাড় ধসে মাটি রাস্তার ওপর পড়ায় জেলা সদরের সাথে রোয়াংছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঝিরি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারছে না, যা স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত চার দিন ধরে পুরো রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়া এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে জনস্বার্থে এই চরম ভোগান্তি দূর করতে রোয়াংছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিবেশ উপেক্ষা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার জন্য তারা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এই জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে হাংসামা বিজিবি সদরদপ্তরের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা বা ভোগান্তি এড়াতে বিজিবি সদস্যরা মাঠে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর কাজে সরাসরি তদারকি করছেন।
একই সাথে, পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং যেকোনো জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের টিমটি বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা ও সতর্কতামূলক মাইকিং জারি রেখেছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এই যৌথ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুতই রোয়াংছড়ির পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রোয়াংছড়ি-বান্দরবান প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান প্লাবিত হওয়ায় এবং পাহাড় ধসে মাটি রাস্তার ওপর পড়ায় জেলা সদরের সাথে রোয়াংছড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঝিরি ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারছে না, যা স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত চার দিন ধরে পুরো রোয়াংছড়ি উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়া এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে জনস্বার্থে এই চরম ভোগান্তি দূর করতে রোয়াংছড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পরিবেশ উপেক্ষা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার জন্য তারা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এই জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে হাংসামা বিজিবি সদরদপ্তরের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা বা ভোগান্তি এড়াতে বিজিবি সদস্যরা মাঠে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো থেকে প্রতিবন্ধকতা সরানোর কাজে সরাসরি তদারকি করছেন।
একই সাথে, পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং যেকোনো জরুরি উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে রোয়াংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের টিমটি বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা ও সতর্কতামূলক মাইকিং জারি রেখেছে।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এই যৌথ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় দ্রুতই রোয়াংছড়ির পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন