ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

একই সঙ্গে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে এগিয়ে চলছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগতভাবে যাচাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে আগে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে হবে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মামলাজট নিরসনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ১৯তম বিজেএসের মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএসের মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে, যা আদালতের মামলাজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

একই সঙ্গে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে এগিয়ে চলছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগতভাবে যাচাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

তবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে আগে সেই আপিল নিষ্পত্তি হতে হবে। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মামলাজট নিরসনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক। ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ এখনও শূন্য রয়েছে।

শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ১৯তম বিজেএসের মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএসের মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন দ্রুত নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে, যা আদালতের মামলাজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ