ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নিয়োগ পরীক্ষার ব্যয় ও সম্মানীতে বড় পরিবর্তন আনল সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬

নিয়োগ পরীক্ষার ব্যয় ও সম্মানীতে বড় পরিবর্তন আনল সরকার
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন পরিপত্রে কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্মানীর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, কিছু নতুন ব্যয় খাত যুক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। এতে যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষর করেন। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর জারি করা ৩৩০ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জনপ্রতি সম্মানী আগের মতোই ৬ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভায় জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিনের সম্মানীও ৬ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও আগের হার বহাল রয়েছে। পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ৩৫ টাকা দেওয়া হবে। তবে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীদের সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানী ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৮০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারী সম্মানী হিসেবে পাবেন ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্রের পরিদর্শক প্রতিদিন পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা।

নতুন পরিপত্রে লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুতে (কাগজসহ) ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয় করা যাবে।

এ ছাড়া নতুনভাবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে। আগে এ খাতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল।

পরিপত্রে ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই বহন করতে হবে এবং এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া যাবে না।

একই দিনে একাধিক পদের পরীক্ষা হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য নির্বাচন কমিটির সদস্য বা বিশেষজ্ঞরা একটি সম্মানীর বেশি পাবেন না। একই কার্যদিবসে পদোন্নতি বা নির্বাচন কমিটির একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হলেও একটি সভার সম্মানীই প্রযোজ্য হবে। তবে একই দিনে লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ দুটি সম্মানী গ্রহণ করতে পারবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের ব্যয় প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ করে করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়করসহ সব সরকারি কর ও বিধিবদ্ধ কর্তন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যয়ের যথাযথ ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া স্কুল বা কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কোনো অবস্থাতেই ভেন্যু ফি বা কেন্দ্র ফি দেওয়া যাবে না। প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ওএমআর টপশিট, কোডিং-ডিকোডিংসহ অন্যান্য ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখতে হবে।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরের আগে সময়ের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নিয়োগ পরীক্ষার ব্যয় ও সম্মানীতে বড় পরিবর্তন আনল সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন পরিপত্রে কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্মানীর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, কিছু নতুন ব্যয় খাত যুক্ত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। এতে যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষর করেন। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর জারি করা ৩৩০ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জনপ্রতি সম্মানী আগের মতোই ৬ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভায় জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিনের সম্মানীও ৬ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও আগের হার বহাল রয়েছে। পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ৩৫ টাকা দেওয়া হবে। তবে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীদের সম্মানীর হার বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানী ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ৮০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারী সম্মানী হিসেবে পাবেন ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্রের পরিদর্শক প্রতিদিন পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা।

নতুন পরিপত্রে লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুতে (কাগজসহ) ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয় করা যাবে।

এ ছাড়া নতুনভাবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আনুষঙ্গিক বিবিধ ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে। আগে এ খাতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল।

পরিপত্রে ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সব ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই বহন করতে হবে এবং এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া যাবে না।

একই দিনে একাধিক পদের পরীক্ষা হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য নির্বাচন কমিটির সদস্য বা বিশেষজ্ঞরা একটি সম্মানীর বেশি পাবেন না। একই কার্যদিবসে পদোন্নতি বা নির্বাচন কমিটির একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হলেও একটি সভার সম্মানীই প্রযোজ্য হবে। তবে একই দিনে লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে সংশ্লিষ্টরা সর্বোচ্চ দুটি সম্মানী গ্রহণ করতে পারবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের ব্যয় প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ করে করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়করসহ সব সরকারি কর ও বিধিবদ্ধ কর্তন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্যয়ের যথাযথ ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

এ ছাড়া স্কুল বা কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কোনো অবস্থাতেই ভেন্যু ফি বা কেন্দ্র ফি দেওয়া যাবে না। প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ওএমআর টপশিট, কোডিং-ডিকোডিংসহ অন্যান্য ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগ নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখতে হবে।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরের আগে সময়ের জন্য কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ