ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাস্তার উপর ঘর নির্মাণ করায় ভোগান্তিতে ১০ পরিবারের শতাধিক মানুষ



রাস্তার উপর ঘর নির্মাণ করায় ভোগান্তিতে ১০ পরিবারের শতাধিক মানুষ
চলাচলের এই রাস্তাটি এতোটাই সরু যে, কেউ মারা গেলে তার লাশও বের করা যাচ্ছে না

সোনারগাঁয়ে রাস্তার উপর টিনসেড ঘর নির্মাণের কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। ঘর নির্মাণে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দত্তপাড়া গ্রামের ১০টি পরিবারের চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে।


এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অবরুদ্ধ এই পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে এবং যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


স্থানীয়রা জানান, দত্তপাড়া গ্রামে আজগর হোসেন ভূঁইয়া ও রোকসানা আক্তার মিনু দম্পতি চলাচলের রাস্তার উপর টিনশেড বিল্ডিং নির্মাণ করায় চলাচলের রাস্তায় বিঘ্ন ঘটে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে লোকজন চলাচল করতে পারছে না। এমকি মৃত ব্যক্তির লাশও বের করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ওই গ্রামের ১০টি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ভেতর এসে টিনশেভ বিল্ডিং করা হয়েছে। আশাপাশের অন্যান্যরা রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করলেও আজগর হোসেন রাস্তার জন্য কোন জায়গা ছাড় দেননি। তাই তার বাড়ির সামনে রাস্তা একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে করে অসুস্থ রোগী ও মৃত ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের করা এবং বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা নেয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


এলাকাবাসী কয়েকবার রাস্তার সমস্যা সমাধানে সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করলেও ওই দম্পতি কোন ভাবেই রাস্তা দিতে রাজি হয়নি। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সোনারগাঁ থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগকারী গোলাম ফারুক পাটোয়ারী বলেন, আমরা এখানে ওই দম্পতির আগে জমি কিনেছি। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যে কেউ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করলে তিন ফিট জায়গা ছেড়ে নির্মান করতে হয়। কিন্তু তারা এক ফিট জমিও ছাড় দেননি বরং তিনি চলাচলের রাস্তার উপর বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারকে। আমার মা ও বাবার লাশ বাড়ি থেকে বের করার সময় বাড়ির বেড়া খুলে লাশ বেড় করতে হয়েছে।


এলাকার সালিশের বিচারক আফাজউদ্দিন জানান, আমরা বারবার অনুরোধ করেছি রাস্তা থেকে স্থাপনাটি সরিয়ে দেয়ার জন্য। রাস্তাটি সংকুচিত করে রাখায় এখান দিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ বের করা যায় না। তাই বাড়ির বেড়া কেটে লাশ বের করতে হয়। এমন অমানবিক ঘটনার জন্য আমরা আজগর হোসেনকে বলেছি রাস্তা থেকে তার স্থাপনা সরানোর জন্য। প্রয়োজনে সরানোর ক্ষতিপূরনও দেয়া হবে। কিন্তু তারা এ কথার কোন কর্ণপাত করেনি।


ওই এলাকার বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, মিনু আক্তার তার জমির দুই দিক দিয়েই রাস্তার উপর স্থাপনা নির্মাণ করায় এক পাশে কয়েকটি পরিবার ও অন্য পাশে গ্রামের আরো ১০টি পরিবার সংকুচিত রাস্তার ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান কামনা করছি।


অভিযুক্ত মিনু আক্তার বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমির উপরই বাড়ি নির্মাণ করেছি। রাস্তার উপর করিনি। বাড়ি নির্মান করলে পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী তিন ফিট ছেড়ে কাজ করতে হয় এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ্যাসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাস্তার উপর ঘর নির্মাণ করায় ভোগান্তিতে ১০ পরিবারের শতাধিক মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

সোনারগাঁয়ে রাস্তার উপর টিনসেড ঘর নির্মাণের কারণে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। ঘর নির্মাণে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দত্তপাড়া গ্রামের ১০টি পরিবারের চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে।


এ ঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অবরুদ্ধ এই পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে এবং যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


স্থানীয়রা জানান, দত্তপাড়া গ্রামে আজগর হোসেন ভূঁইয়া ও রোকসানা আক্তার মিনু দম্পতি চলাচলের রাস্তার উপর টিনশেড বিল্ডিং নির্মাণ করায় চলাচলের রাস্তায় বিঘ্ন ঘটে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে লোকজন চলাচল করতে পারছে না। এমকি মৃত ব্যক্তির লাশও বের করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ওই গ্রামের ১০টি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলাচলের রাস্তা ভেতর এসে টিনশেভ বিল্ডিং করা হয়েছে। আশাপাশের অন্যান্যরা রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়ে বাড়ি নির্মাণ করলেও আজগর হোসেন রাস্তার জন্য কোন জায়গা ছাড় দেননি। তাই তার বাড়ির সামনে রাস্তা একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে করে অসুস্থ রোগী ও মৃত ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে বের করা এবং বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা নেয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।


এলাকাবাসী কয়েকবার রাস্তার সমস্যা সমাধানে সালিশ বৈঠকের ব্যবস্থা করলেও ওই দম্পতি কোন ভাবেই রাস্তা দিতে রাজি হয়নি। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সোনারগাঁ থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযোগকারী গোলাম ফারুক পাটোয়ারী বলেন, আমরা এখানে ওই দম্পতির আগে জমি কিনেছি। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী যে কেউ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করলে তিন ফিট জায়গা ছেড়ে নির্মান করতে হয়। কিন্তু তারা এক ফিট জমিও ছাড় দেননি বরং তিনি চলাচলের রাস্তার উপর বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারকে। আমার মা ও বাবার লাশ বাড়ি থেকে বের করার সময় বাড়ির বেড়া খুলে লাশ বেড় করতে হয়েছে।


এলাকার সালিশের বিচারক আফাজউদ্দিন জানান, আমরা বারবার অনুরোধ করেছি রাস্তা থেকে স্থাপনাটি সরিয়ে দেয়ার জন্য। রাস্তাটি সংকুচিত করে রাখায় এখান দিয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ বের করা যায় না। তাই বাড়ির বেড়া কেটে লাশ বের করতে হয়। এমন অমানবিক ঘটনার জন্য আমরা আজগর হোসেনকে বলেছি রাস্তা থেকে তার স্থাপনা সরানোর জন্য। প্রয়োজনে সরানোর ক্ষতিপূরনও দেয়া হবে। কিন্তু তারা এ কথার কোন কর্ণপাত করেনি।


ওই এলাকার বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, মিনু আক্তার তার জমির দুই দিক দিয়েই রাস্তার উপর স্থাপনা নির্মাণ করায় এক পাশে কয়েকটি পরিবার ও অন্য পাশে গ্রামের আরো ১০টি পরিবার সংকুচিত রাস্তার ভোগান্তি পোহাচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান কামনা করছি।


অভিযুক্ত মিনু আক্তার বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমির উপরই বাড়ি নির্মাণ করেছি। রাস্তার উপর করিনি। বাড়ি নির্মান করলে পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী তিন ফিট ছেড়ে কাজ করতে হয় এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ্যাসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ