লেখাপড়া শেষ করে চাকরির আশায় দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সফল না হয়ে কৃষিকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার দুই শিক্ষিত যুবক মতিউর রহমান (৩২) ও রুবেল হোসেন (২৫)। হাইব্রিড মরিচ চাষে মনোনিবেশ করেই বদলে গেছে তাদের জীবনের গল্প। এখন তারা শুধু নিজেরাই স্বাবলম্বী নন, এলাকায় অন্য তরুণদেরও কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলছেন।
মাদলা ইউনিয়নের চকমোমিন গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল কাদেরের ছেলে মতিউর রহমান ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করেন। চাকরির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পৈতৃক জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি মাদলা মালিপাড়া বাজারে কীটনাশকের ব্যবসাও চালাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করেন- ১ বিঘায় হাইব্রিড মরিচ, ১ বিঘায় বেগুন এবং ১ বিঘায় ফুলকপি।
মতিউর জানান, ভাদ্রের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কারিশমা (২০ শতক) ও কিংস্টার (১৩ শতক) জাতের হাইব্রিড মরিচ রোপণ করেন। এখন পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করে তিনি দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন। মৌসুম শেষে ১ বিঘা জমি থেকে আড়াই লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি, যেখানে উৎপাদন ব্যয় মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে একই গ্রামের আব্দুল খালেক মন্ডলের ছেলে রুবেল হোসেন তিন বছর আগে স্নাতক পাস করেন। চাকরির চেষ্টা করতে করতেই কৃষিকাজে যুক্ত হন তিনি। চলতি মৌসুমে তিনি ৫৮ শতক জমিতে কারিশমা ও ১৭১৭ জাতের হাইব্রিড মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন। বাজার অনুকূলে থাকলে চৈত্র মাস নাগাদ ৪ লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি। তার ব্যয় হবে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা।
শাহনগর সবজি নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে বর্তমানে হাইব্রিড মরিচ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যায় কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে শাজাহানপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩শ’ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মরিচ চাষ হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারমূল্যের কারণে এ অঞ্চলের কৃষকরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন