অপরাধ ও দুর্ণীতি

উত্তরায় অপহরণ-মুক্তিপণ মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৬ আসামি, গ্রেপ্তার ৪

ছাত্রদল নেতাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

⎙ প্রিন্ট
উত্তরায় অপহরণ-মুক্তিপণ মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৬ আসামি, গ্রেপ্তার ৪
উত্তরায় অপহরণ-মুক্তিপণ মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৬ আসামি, গ্রেপ্তার চার

উত্তরায় অপহরণ-মুক্তিপণ মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ ১৬ আসামি, গ্রেপ্তার ৪

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ বাবুকে  আরও ১৫ জন মিলিয়ে মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এই মামলার এজাহারে যাদের নাম রয়েছে, সেই চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন, যাকে সংক্ষেপে এসআরবি-১ বলা হয়। গত ৫ অক্টোবর চম্পা বেগম নামের এক নারী উত্তরার পূর্ব থানায় গিয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁর ভাই ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম উত্তরার নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি, অর্থাৎ তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হয় যে শরিফুলকে আটকে রাখা হয়েছে, আর এর বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে শরিফুলকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়, এরপর তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা স্থানান্তর করে নিয়ে নেওয়া হয়।

এর পাশাপাশি তাঁর কাছেই থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এভাবে সবকিছু মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ করে মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ওই টাকা নিয়ে নেওয়ার পরও শরিফুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

এরপর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি এসআরবি-১-এর টহলরত সদস্যদের কাছে জানান। তাদের অভিযান পরিচালনার পর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের একটি ভবন থেকে শরিফুলকে উদ্ধার করা হয়। আর ওই সময়েই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন সাকিব হোসাইন, আনোয়ার হোসেন ওরফে মারুফ, হানিফ এবং ইমরান ফরাজী। উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জানিয়েছেন যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে। তবে সেই রিমান্ডের শুনানি তখনো পর্যন্ত হয়নি। মামলার প্রধান আসামি সাগর আহমেদ বাবু বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযুক্ত এই ছাত্রদল নেতার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই যাবে না।

সম্পর্কিত সংবাদ