ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, বাসা-বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ বাবদ নাগরিকদের কাছ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়া যাবে। রশিদেও ১০০ টাকাই উল্লেখ থাকছে, অথচ মাঠপর্যায়ে ঠিকাদারদের নিয়োজিত কর্মীরা জোরপূর্বক আদায় করছেন ২০০ টাকা।
এলাকাবাসী ও দিনমজুরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য মাস শেষে এই অতিরিক্ত ১০০ টাকাও একটি বড় বোঝা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিবাদ করলে বর্জ্য সংগ্রহকারীরা উল্টো ময়লা নেওয়া বন্ধ করে দেন। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা একাধিকবার সিটি কর্পোরেশনে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানালেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে—এত অনিয়ম ও দুর্নীতির পরও কোন অদৃশ্য বলে এই ঠিকাদাররা পার পেয়ে যাচ্ছেন?
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে। ডিএসসিসির কর অঞ্চল-৪ ও ৫ এর অধীন এই এলাকাগুলোতে নিয়মিত তদারকি করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন ‘দেখেও না দেখার ভান’ করে আছেন। তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতাই এই সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় যাত্রাবাড়ীর অলিগলিতে প্রায়ই ময়লার স্তূপ জমে যায়। ময়লা পরিষ্কারের দাবিতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে উল্টো বর্জ্য সংগ্রহকারীরা এলাকা বয়কট করেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম লঙ্ঘন করে এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—কবে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাবে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও কাজলার সাধারণ মানুষ? অবিলম্বে এই অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারদের লাইসেন্স বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের তদারকি জোরদার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে ডিএসসিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








