নিকাব পরা ছাত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে ঢাবির শিক্ষক পাঠদান থেকে অব্যাহতি
নিকাব পরায় ছাত্রীকে মৌলবাদী বলার অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে ক্লাস থেকে সরানো হলো
নিকাব পরে থাকা একজন ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করার অভিযোগ সামনে আসার পর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর তারিখে ইংরেজি বিভাগের একাডেমিক কমিটির একটি জরুরি বৈঠকে।দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এবং যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই ওই জরুরি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অধীনে থাকা দুটি কোর্সের ক্লাস ও টিউটোরিয়ালের দায়িত্ব অন্য একজন শিক্ষককে দেওয়া হবে।একইসঙ্গে, ওই অভিযোগগুলো যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।পুরো ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট থেকে।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার অভিযোগ করেছেন যে, স্নাতকোত্তর শ্রেণির একটি ক্লাসে নিকাব পরা এক শিক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।তার অভিযোগ অনুসারে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ওই নিকাব পরা শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষের পেছনের দিকে বসতে বলেছিলেন।এর পাশাপাশি, ওই শিক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশ্ন তোলার অভিযোগও রয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ মোট পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরাও একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমুজ্জাদেদ আলফেসানী জানিয়েছেন যে, বিভাগের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছে গেছে।প্রশাসন অভিযোগগুলো তদন্ত করে এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।তবে শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়নি।এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।সুতরাং, অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরে না নিয়ে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই যথাযথ হবে।








