জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের অভিযানে গোলাগুলি, ৫ গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশ যখন অভিযান পরিচালনা করছিল, ঠিক সেই সময়েই সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে যায়।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পুলিশ যখন অভিযান পরিচালনা করছিল, ঠিক সেই সময়েই সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে যায়।আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশ, মোহাম্মদ ইয়াছিন নামে পরিচিত একজন ব্যক্তির পাঁচজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৮ অক্টোবর তারিখে দুপুরের দিকে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে, ওই এলাকায় সশস্ত্র অপরাধীরা অবস্থান করছে এবং তারা অস্ত্র মজুত করে রেখেছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।পুলিশের দাবি অনুযায়ী, অভিযানের খবর পেয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল।এরপর অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান এবং ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।তবে ওই গোলাগুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।স্থানীয় পুলিশ ও এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুসারে, জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় জমি দখল, পাহাড় কাটা, অবৈধ প্লট বিক্রি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা চলে আসছে।অন্যদিকে, একই দিনেই জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের একটি বড় পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে একটি নতুন পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।এই কাজের জন্য প্রায় ৩০০ একর জমি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।এর পাশাপাশি, ৭২ একর জায়গার উপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি খাসজমি উদ্ধার এবং ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।তবে সেখানে বসবাসকারী অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে তিনি জানান।সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ওই এলাকায় অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা কমানোর চেষ্টা করা হবে।তবে পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং মোট ব্যয়ের পরিমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।








