আন্তর্জাতিক

কাতারে জুলাই শহীদ দিবস পালন

⎙ প্রিন্ট
কাতারে জুলাই শহীদ দিবস পালন
ছবি: সংগৃহীত

কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন, বিশেষ দোয়া এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৫ আগস্ট) কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খানের সভাপতিত্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী, কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, রেমিট্যান্সযোদ্ধা, বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। তাদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

[TECHTARANGA-POST:12519]

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে দিবসটির ইতিহাস, তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরে কাতারের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি ও তাৎপর্য নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগের চেতনায় বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা মানবতার ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান এবং বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ