মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী মো. আব্দুস ছাত্তার রুবেল ওরফে ছাত্তার মিয়া জানান, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর বসতবাড়ির পাশের চার্জিং রুম থেকে পাঁচটি ব্যাটারিসহ আনুমানিক ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ইজিবাইক চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি ৭ ফেব্রুয়ারি হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে থানায় কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩-এ সি.আর মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। ওই মামলায় শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চুকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
বাদীর আরও অভিযোগ, ইজিবাইকটি উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চু প্রথমে ৪০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ১৫ দিনের মধ্যে বাকি ১ লাখ ১২ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ইজিবাইকটি উদ্ধার করে দেননি কিংবা কোনো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থও পরিশোধ করেননি।
ঘটনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় একপর্যায়ে বাদী মো. আব্দুস ছাত্তার এক সংবাদাদিকের শরণাপন্ন হন। ওই সংবাদকর্মী পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে মামলার বিষয়ে শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চুর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংবাদ সংগ্রহকালে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি বড় আঘাত। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের এমন হুমকি ও বাধার মুখে পড়তে হয়, তবে তা গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা এই ঘটনার সুষ্পষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে অবিলম্বে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মামলার ৪ নম্বর আসামি শফিউদ্দিন সরকার বাচ্চু তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মামলার বাদী ছাত্তার মিয়া। তিনি অবিলম্বে চুরি যাওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার অথবা এর ন্যায্য আর্থিক মূল্য আদায় এবং সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অপরাধের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।







