প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী পুরুষদের এভাবে দত্তক নেওয়া হয়। দত্তক নেওয়ার পর তিনি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং জন্মসন্তানের মতোই উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পেতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়।
এর পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য পারিবারিক ব্যবসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা নিজের সন্তানকে ব্যবসার উপযুক্ত উত্তরসূরি মনে না হলে মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। সুজুকি মোটর করপোরেশনের দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিকেও প্রতিবেদনে এই প্রথার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশিরাও কি সুযোগ পাবেন?
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অনুমতি থাকা বিদেশিরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনেরও প্রয়োজন হতে পারে। ফলে শর্ত পূরণকারী কোনো বাংলাদেশির ক্ষেত্রেও এই সুযোগ আইনগতভাবে সম্ভব হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দত্তক হওয়া মানেই জাপানের নাগরিকত্ব বা ভিসা পাওয়া নয়। নাগরিকত্ব ও ভিসার জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই এটিকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আবেদন করে জাপানের ধনী পরিবারের উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো সাধারণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
জাপানে কম জন্মহার ও পারিবারিক ব্যবসায় উত্তরসূরি সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী ‘মুকোয়োশি’ প্রথাটি এখনো বিভিন্ন পরিবারে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।








