দেশে জ্বালানির টানাটানির জেরে একসঙ্গে ৩৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অবস্থার কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা গিয়ে ঠেকেছে আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত।
৭ অক্টোবরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্য হাতে নিয়ে পরদিন ৮ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে এই চিত্রই ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না যাওয়া। বিশেষ করে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছে না।
অপরদিকে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে গেলেও বড় অঙ্কের টাকা লাগছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে প্রায় সাত টাকা। আর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে খরচ হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা। অন্যদিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৫ টাকায়। ফলে দামি জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গেলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ৭ অক্টোবর গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সরবরাহ মিলেছে মাত্র ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
এই বিশাল ঘাটতির কারণে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ঘোড়াশাল, ভেড়ামারা, বাঘাবাড়ী ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি ইউনিট গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ, চৌমুহনী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদনে ছিল না। কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেও বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বেশি গ্যাস সরবরাহ করতে গেলে শিল্পকারখানায় গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
এতে শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাবেক পাওয়ার সেল মহাপরিচালক বিডি রহমত উল্লাহ বলেছেন, জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দুর্বলতা রয়েছে। তাঁর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা প্রয়োজন।
তবুও, ৩৫টি কেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়টি আর আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের তথ্য মিলিয়ে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট সেই সময়ে পরিস্থিতি আসলে কেমন ছিল। এটা কিন্তু রাত ৯টার সেই মুহূর্তের গ্রিড পরিসংখ্যান নয়।
আগামী দিনে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন হবে, সেটা অনেকটাই নির্ভর করছে দুইটি বিষয়ের ওপর—এক, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, আর দুই, বন্ধ হয়ে থাকা ইউনিটগুলোকে আবার চালু করা।
দেশে ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং
জ্বালানি সংকটে বন্ধ ৩৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র, দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের চাপ








