সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কমিটির সভা

চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা পর্যায়ের কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

⎙ প্রিন্ট
চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কমিটির সভা
চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে জেলা পর্যায়ের কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে করণীয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিতভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “ডেঙ্গুর বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, রাস্তার দুই পাশ, ফুলের টবসহ যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। মশার লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতি বৃহস্পতিবার সব স্কুল-কলেজে ‘ক্লিনিং ডে’ হিসেবে পালন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। শনিবার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি রোববার ও সোমবার অন্যান্য অফিস-আদালত প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।”
সভায় চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডাঃ হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, “ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া যায়। জ্বরের সঙ্গে পেটব্যথা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে নিয়মিত খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোসহ মশার কামড় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায়।”
সিভিল সার্জন জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৬৩ হাজার ৬৭৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৯ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করার পর তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও সভায় জানানো হয়। এছাড়াও তিনি বলেন বর্তমাবে খুলনা বিভাগে খুলানা এবং বাগেরহাটে ডেঙ্গুর প্রার্দুরভাবে সবথেকে বেশি।
সভায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা তাসলিমা নাসরিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবিদ হুসাইন সিয়াম, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সিএস হারুন অর রশিদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিমসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।

সম্পর্কিত সংবাদ