ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আর্কাইভ দেখুন

চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, নির্ধারিত রঙে চলবে ইজিবাইক

চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, নির্ধারিত রঙে চলবে ইজিবাইক

প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাস মালিক-শ্রমিক ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে জেলার পাঁচটি রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলার এক উপজেলার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অন্য উপজেলায় চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে ইজিবাইকগুলোকে উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক নির্ধারিত রঙে রাঙাতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত রঙ না করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।নির্ধারিত রং অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার ইজিবাইক হবে 'কমলা', চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার (পৌরসভা ব্যতীত) 'নীল', আলমডাঙ্গা উপজেলার 'সবুজ', দামুড়হুদা উপজেলার 'খয়েরি' এবং জীবননগর উপজেলার ইজিবাইক 'হলুদ' রঙের হবে।চুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল বলেন, ইজিবাইকের রং এবং শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইজিবাইক চালকদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল-ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, জেলা ইজিবাইক রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ, সিনিয়র সভাপতি মঞ্জুরুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা।এর আগে বাস-মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কর্মসূচি পালন করে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাতায়াত করেন।পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে জেলার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


দীঘিনালায় তৃতীয় দফায় বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার।    দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কে পানি, যান চলাচল বন্ধ নৌকায় পারাপার, আটকা শত শত গাড়ি

দীঘিনালায় তৃতীয় দফায় বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার। দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কে পানি, যান চলাচল বন্ধ নৌকায় পারাপার, আটকা শত শত গাড়ি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। চলতি আগস্ট মাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বন্যার কবলে পড়েছে উপজেলাটি। বারবার বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের পুকুর ও পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে উপজেলায় ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাতভর ভারী বর্ষণের পর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় মেরুং, কবাখালী, বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কে চলাচলকারী মানুষ। দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়কের অংশ নৌকায় পার হয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।এদিকে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বাঘাইছড়ি ও সাজেকের সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।মেরুং ইউনিয়নের ৩ নম্বর এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ২০ থেকে ৩০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে। এছাড়া কবাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উত্তর কবাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যাকবলিত ১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বারবার বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, কোথাও মাছের পুকুর ভেসে গেছে। পানির তোড়ে পোলট্রি মুরগির খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষক, মৎস্যচাষি ও খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।স্থানীয়রা বলছেন, চলতি আগস্ট মাসের একের পর এক বন্যায় অনেক পরিবার সর্বস্ব হারানোর পথে। কয়েক দিনের ব্যবধানে বারবার পানি ওঠায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও পাচ্ছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। একবার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি ও খামার গুছিয়ে নেওয়ার আগেই আবারও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সবকিছু। এতে নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “পানির প্রবাহ ক্রমশ বাড়ছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


সিলেটে আব্দুল্লাহ হত্যা: এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটে আব্দুল্লাহ হত্যা: এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের শিবের বাজার দিঘীরপাড় গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলায় যুবক আব্দুল্লাহ নিহত হওয়ার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা ইতোমধ্যে দুই দফা মানববন্ধন করেছেন। এসব কর্মসূচি থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। তবে মানববন্ধন ও ধারাবাহিক দাবির পরও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।গত ২৭ জুলাই সকালে বসতভিটার জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে বুদু উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।স্থানীয় সূত্র জানায়, একই গ্রামের মবশ্বির আলী ও বুদু উল্লাহ পরিবারের মধ্যে বসতভিটার জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।ঘটনার দিন সকালে মবশ্বির আলী পক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশ কাটাসহ দখলের চেষ্টা করলে অপর পক্ষ বাধা দেয়। এ নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহত আব্দুল্লাহর ছোট ভাই মাহফুজ বাদী হয়ে গত ২৯ জুলাই জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। যার মামলা নং-১৮ । নিহতের পরিবার ও স্বজনদের প্রশ্ন,প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও কেন প্রায় এক মাসে কোনো আসামি গ্রেপ্তার হলো না? দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।এলাকাবাসীর ভাষ্য, দুই দফা মানববন্ধনের পরও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য চান তারা। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিরা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তাদের শনাক্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


মোহাম্মদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস

মোহাম্মদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।হুসাইনী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর শিয়া জামে মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বাঁশবাড়ী, মোহাম্মদপুর, আল্লাহ করিম জামে মসজিদ ও নূরজাহান রোডসহ এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শিয়া জামে মসজিদে এসে মিছিলটি শেষ হয়।আয়োজনে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও পতাকা দেখা যায়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে পুরো মিছিলের পথজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।আয়োজকদের তথ্যমতে, মোহাম্মদপুরের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা মিছিলে যোগ দেন। আলেম-ওলামা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।মিছিল উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তব্য দেন হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা ড. আলী মুর্তজা। এছাড়া বক্তব্য দেন হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাদাত এবং হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা মেরাজ মুন্সী।বক্তারা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানবতার কল্যাণে দেওয়া বার্তা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।বক্তারা বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান তারা।জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নির্ধারিত পথ ধরে মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। মিছিল শেষে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় শিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সমবেত হন।হুসাইনী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মুসল্লি, আলেম-ওলামা, স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। আয়োজকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সহযোগিতায় কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।


আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চল থেকে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাংবাদিকদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ, পেশাগত সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫ বি/১-এর জেলা গভর্নর লায়ন ডা. মো. মাজহারুল আনোয়ার।প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সকালের সময় ও ডেইলি বেস্ট নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. নূর হাকিম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগতের সম্পাদক ও প্রকাশক খান সেলিম রহমান।আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন মো. হেলাল উদ্দিন হিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব মো. ওমর ফারুক সোহেল।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আলফা হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এল কে চৌধুরী, আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের কানাডাবিষয়ক সম্পাদক লায়ন নাসিমা ফেরদৌসি এবং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের অপারেশন বিভাগের পরিচালক লায়ন আশিকুজ্জামান চৌধুরী ইমন।এ ছাড়া মাতৃছায়া হাসপাতাল, রায়পুর, লক্ষ্মীপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বাহার উদ্দিন মৃধা, থ্রিডি অটিস্টিক ইন্টেরিয়র অ্যান্ড ফার্নিচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন এবং গ্রিনরেড পাতা স্টাফ কোয়ার্টারের সহসভাপতি মো. মাহমুদুল আলমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আয়োজনের অন্যতম প্রধান পর্ব ছিল আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নতুন লোগো উন্মোচনের পাশাপাশি সংগঠনটির অভিষেক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকদের উপস্থিতি বিশেষ মাত্রা যোগ করে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।আয়োজনে সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত ঐক্য, সৌহার্দ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। একটি শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার গুরুত্বও আলোচনায় স্থান পায়।আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের পেশাগত সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরিতে সংগঠনটি ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন তারা।লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেককে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উপস্থিত সাংবাদিক ও অতিথিদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।


মাটিরাঙ্গায় জামায়াতের দায়িত্ব শীল পর্যায়ের শিক্ষা বৈঠক TS সম্পন্ন।

মাটিরাঙ্গায় জামায়াতের দায়িত্ব শীল পর্যায়ের শিক্ষা বৈঠক TS সম্পন্ন।

মাটিরাঙ্গায় জামায়াতের দায়িত্ব শীল পর্যায়ের শিক্ষা বৈঠক (TS) সম্পন্ন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাটিরাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্ব শীল দের নিয়ে দিন ব্যাপী শিক্ষা মূলক কর্মশালা (TS) অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (২৯ আগষ্ট '২৬ রোজ শনিবার) সকাল ১০টা থেকে শুরু করে বিকাল ৩.৪৫ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাটিরাঙ্গা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের দায়িত্ব শীল ব্যক্তিদের নিয়ে দিন ব্যাপী শিক্ষা মূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১০ টায় উপজেলা আমীর মাওলানা মোঃ আব্দুল জলিল সাহেব পবিত্র কুরআনের দরসের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খাগড়াছড়ি জেলার সংগ্রামী সেক্রেটারী জনাব, মিনহাজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল হোসেন ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভা আমীর জনাব, সামছুল হক। প্রধান অতিথি উপস্থিত দায়িত্বশীলদের কে ইসলামী জ্ঞান চর্চা করে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট নিজের জবাব দিহিতার আলোকে নিজেকে গড়ে তোলা এবং ইউনিট পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহবান করেন।এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক সকল বিষয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনে ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান,,


ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে বিশাল জশনে জুলুস

ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে বিশাল জশনে জুলুস

কিশোরগঞ্জে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বিশাল জশনে জুলুস (আনন্দ মিছিল) ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদ ও জেলা সুন্নী সাইবার টিমের যৌথ আয়োজনে এ মিছিলে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা অংশগ্রহণ করেন।শহরের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং সুন্নী আকাইদের পতাকা হাতে নিয়ে মহানবী (সা:)-এর আগমনকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে কলেজ মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন মধু, তরফিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদনশীন পীর ও জসনে জুলুস উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সৈয়দ ইয়াছিন সাহেব, আটরশি দরবার শরীফের জেলার কর্মী প্রধান আনিসুর রহমান,আবুল কাশেম, মোঃ সুমনখান ,পাটধা দরবারের গদিনিশীন পীর শফিকুল ইসলাম, ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ আলামিন,প্রমুখ।সমাবেশে বক্তারা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’: ৫ হাজার অসহায় মানুষকে নিজ হাতে খাওয়ালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি।

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’: ৫ হাজার অসহায় মানুষকে নিজ হাতে খাওয়ালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি।

মৃত্যুর পর স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাওয়াত করে ‘চল্লিশা’ বা কুলখানির আয়োজন আমাদের সমাজের এক শতাব্দী প্রাচীন প্রথা। কিন্তু মরণোত্তর সেই প্রথার প্রথাগত ছক ভেঙে দিয়ে এক অভূতপূর্ব ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক দম্পতি। মৃত্যুর পর নয়, জীবিত থাকা অবস্থাতেই নিজেদের ‘চল্লিশা’র আয়োজন করে প্রায় পাঁচ হাজার অসহায়, দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে তৃপ্তির আহার তুলে দিলেন তারা। ​উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫) দম্পতির এই ব্যতিক্রমী ও হ্রদয়গ্রাহী উদ্যোগ পুরো জেলাজুড়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।​গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ব্যতিক্রমী ভোজের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টানা চলে এই প্রীতিভোজ। অতিথিদের সুশৃঙ্খলভাবে বসিয়ে খাওয়ানোর সুবিধার্থে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশাল সামিয়ানা টাঙানো হয় এবং সারি সারি চেয়ার-টেবিলের বন্দোবস্ত করা হয়। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল সেখানে। দুপুরের কড়া রোদ পেরিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী প্রবীণ, শিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষ পরম আনন্দে এই আয়োজনে অংশ নেন। ​খাবারের আয়োজনেও ছিল পূর্ণাঙ্গ ভূরিভোজের ছোঁয়া। পাত পেড়ে খেতে বসা হাজারো অতিথির জন্য মেন্যুতে ছিল সুস্বাদু গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল এবং মিষ্টিমুখ করানোর জন্য পায়েস। সুবিশাল এই ভোজ সামলাতে গ্রামবাসী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রফিকুল ইসলাম নিজে মাঠে ঘুরে ঘুরে মানুষের পাতে পরম মমতায় খাবার তুলে দেন।বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক ও খুদে ব্যবসায়ী। দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) এবং এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার। দুই সন্তানই বাকপ্রতিবন্ধী। মেয়ে জামাই বাবলু মিয়া পরিবারে অন্যান্য বিষয়ে তদারকি করেন।​জীবিত অবস্থায় নিজের ও স্ত্রীর চল্লিশা আয়োজনের রহস্য ও পিছনের অনুভূতির কথা জানতে চাইলে অশ্রুসজল কণ্ঠে রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার দুই ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী। জীবনের শেষ সীমায় পৌঁছে প্রায়ই ভাবতাম—আমার মৃত্যুর পর এই সন্তানরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রতিবেশীদের ডেকে ঠিকভাবে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারবে তো? তাদের পক্ষে কি বড় আয়োজনে মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হবে? সেই অজানা শঙ্কা ও দুশ্চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্ত নিই, জীবনের শেষ দিন আসার আগেই নিজ হাতে মানুষের সেবা করে যাব।" তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তাঁর কিছু জমি ও দোকান সরকার কর্তৃক সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় অধিগ্রহণ করা হয়। সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া টাকার একটি বড় অংশ তিনি এই কাজের জন্য রেখে দেন। পুরো আয়োজন সম্পন্ন করতে তাঁর প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। রফিকুল ইসলামের ভাষায়, "অন্যে আমার মৃত্যুর পর দোয়া করবে কি না জানি না, কিন্তু নিজ হাতে পাঁচ হাজার মানুষকে খাইয়ে তাঁদের যে হাসি আর মুখভরা দোয়া পেয়েছি, তাতেই আমার জীবন সার্থক।"​প্রথা ভাঙা এই আয়োজনের পরিকল্পনা রফিকুল ইসলাম বেশ কিছু দিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছিলেন। প্রথম দিকে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে বেশ অদ্ভুত ঠেকলেও শুক্রবারের এই বিশাল ও সফল আয়োজনের পর পুরো হোসেনপুর উপজেলা ছাড়িয়ে দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ​রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "আমাদের এলাকায় তো বটেই, আমার জানা মতে পুরো দেশেই এমন দৃশ্য বিরল। মৃত্যুর পর স্বজনরা কীভাবে চল্লিশা করবে না-করবে তা নিয়ে সংশয় থাকে। কিন্তু জীবিত অবস্থায় হাজার হাজার মানুষকে ডেকে উৎসবমুখর পরিবেশে পেট পুরে খাওয়ানোর দৃশ্য আমাদের চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে।"​স্থানীয় জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রহিদ বলেন, "রফিকুল ইসলামের পরিবারের বাস্তবতা বিবেচনা করলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী। সরকারি জমি অধিগ্রহণের টাকা কোনো অপচয় না করে তিনি যেভাবে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিলেন এবং পরকালের জন্য দোয়ার ব্যবস্থা করলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।"​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা রফিকুল-বেগম দম্পতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, "মৃত্যুর পর লোকদেখানো মেজবান বা চল্লিশা করার চেয়ে জীবিত অবস্থায় নিজের চোখে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মতো আত্মতৃপ্তি আর কিছুতে হতে পারে না।"​সামাজিক প্রথা ও লোকলজ্জার ঊর্ধ্বে উঠে রফিকুল ইসলাম ও বেগম আক্তার দম্পতির এই আত্মিক উপলব্ধি ও মানবিক ভোজের গল্প কেবল কিশোরগঞ্জের বীর হাজীপুর গ্রামেই নয়, বরং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের চিন্তার জগতে এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।


গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট একে অন্যকে আরও তীব্র করে তুলছে। গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা নির্ভর করছে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর। এতে শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়ায় কোথাও কোথাও ডিজেলের নীরব ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ডিজেল তিন জ্বালানির সংকট এখন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিল্প, পরিবহন ও নাগরিক জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের সূত্রপাত হয়। বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। কোথাও কারখানার উৎপাদন কমেছে, কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে যন্ত্রপাতি। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর অনেক এলাকায় রান্নার জন্য লাকড়ির চুলার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক মানুষকে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে।এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ের চাপ এতদিন মূলত ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ওপর বেশি থাকলেও এখন রাজধানীতেও তা স্পষ্ট। ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়। কোনো কোনো এলাকায় দিনে একবার সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে বহু এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে চাহিদা কমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে; আবার গরম বাড়লে লোডশেডিংও বাড়ছে।সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার সঙ্গে বিদ্যমান সরবরাহের ব্যবধান বিপুল। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্যও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টায় সরবরাহ সামান্য বেড়ে ২৪১ কোটি ঘনফুটে উঠলেও এরপর আবার কমতে থাকে। ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোট সরবরাহ নেমে আসে ২৩৫ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। ২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এ সময় দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ ২৬ আগস্টের তুলনায় দুই দিনে মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট; শুধু এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৬ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।এ অবস্থায় শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বরাদ্দ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার কথা। কিন্তু এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস কম পাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংকট আবার শুধু গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল। প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার আটটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থাকলেও ওই দিন এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে, মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। কয়লা সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আদানির কেন্দ্রও ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। ২৪ আগস্ট দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট এবং ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট। রাতেও ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৯০ মেগাওয়াট। পরদিন ভোর ৪টায় ২ হাজার ৯১৫ এবং সকাল ৬টায় ২ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় ঘাটতি কিছুটা কমে ১ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াটে নেমে আসে।বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটরের দিকে ঝুঁকছে। একইভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়েও জেনারেটরের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। এতে বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ডিজেলের নীরব ঘাটতি।শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিপিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি পাঠানো হয়েছে; অফিস খুললে সরাসরি চিঠি দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতির পাশাপাশি দেশের মোট গ্যাসের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেড়েছে।তবে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের পরিবর্তে বিপণন কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে—এমন নির্দেশনার কারণে অনেক পাম্প প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মজুত করতে পারছে না। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলঘন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি সংকটপূর্ণ।সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, আগে যেসব পাম্পে দৈনিক চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা ছিল, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ২০ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি গাড়ি এলে সাড়ে চার হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে এবং পরের দিন আবার আসতে বলা হচ্ছে। ফলে পাম্পগুলোকে রেশনিং করে গ্রাহকদের জ্বালানি দিতে হচ্ছে। এতে তাদের মজুতও আগের তুলনায় কমে গেছে।তিনি অভিযোগ করেন, নীতিনির্ধারকেরা মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সরবরাহের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। তাঁর মতে, লোডশেডিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেনারেটরের ব্যবহার ও ডিজেলের চাহিদা বাড়াটাই স্বাভাবিক। তাই চাহিদা বাড়লে সরবরাহও বাড়াতে হবে। ডিজেল সরবরাহ সীমিত থাকায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি কেনা নিয়ে এক ধরনের ‘প্যানিক’ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাম্প মালিকদের সংগঠন। চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো না হলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বাজারব্যবস্থায়।বর্তমান পরিস্থিতি তাই বিচ্ছিন্ন কোনো গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকট নয়। বরং গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাচ্ছে, বিদ্যুৎ সংকট শিল্পকে জেনারেটরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আর জেনারেটরের বাড়তি ব্যবহার ডিজেলের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প পথও সীমিত করে দিয়েছে। ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ-ডিজেল-শিল্প উৎপাদন পুরো জ্বালানি ব্যবস্থাই এখন একটি আন্তঃসংযুক্ত চাপের মধ্যে পড়েছে।এ পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস-তেল-কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাড়তি ডিজেল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণব্যবস্থা সমন্বয় করা জরুরি। তা না হলে সাময়িক জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করতে পারে।


ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র

ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র

মোঃ রিপন শেখ ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:একসময় বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে দুর্ভোগ, ভাঙাচোরা সড়কে নিত্য ভোগান্তি আর জরুরি রোগী নিয়ে ছুটতে গিয়ে আতঙ্ক—এটাই ছিল ভাঙ্গার প্রত্যন্ত জনপদের অনেক মানুষের বাস্তবতা। সেই চিত্র বদলের প্রত্যাশায় এখন উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ঘিরে একের পর এক উন্নয়ন উদ্যোগে এলাকায় তৈরি হয়েছে আশাবাদের আবহ। বিশেষ করে ভাঙ্গায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। মানুষের কাছে যাচ্ছেন এমপি বাবুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি দরিদ্র, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শুনছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি জানার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা। এতে এমপি বাবুলের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থাও বাড়ছে বলে দাবি তাদের। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাবুল সাহেব এলাকায় এসে মানুষের সঙ্গে মিশছেন, গরিব-অসহায় পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তাদের কথা শোনার একজন মানুষ আছেন।” আরেক বাসিন্দার বলেন, “উন্নয়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে গ্রামের মানুষের। রাস্তা ভালো হলে কৃষক ফসল নিয়ে সহজে বাজারে যেতে পারবেন, রোগী দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারবেন। আমরা চাই এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।” ৪৩ সড়ক প্রকল্পে বদলের প্রত্যাশা ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্ষায় কাদা-পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের। এ অবস্থায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগকে ঘিরে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়ক উন্নয়ন হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হবে না—কৃষকের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারিকরণের পথে ভাঙ্গা মহিলা কলেজ যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে স্থানীয় উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির পর ২০০৪ সালে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। গত ১৩ আগস্ট কলেজটি সরকারিকরণের জন্য আবেদন করা হয়। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কলেজটি সরকারি হলে ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এক অভিভাবক বলেন, “মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে পাঠাতে অনেক পরিবারই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারি হলে এলাকার অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা উপকৃত হবে।” ট্রমা সেন্টার হলে বদলে যাবে জরুরি চিকিৎসার চিত্র ভাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আধুনিক ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের আশা, ভাঙ্গায় আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভাঙ্গার পাশাপাশি সদরপুর, চরভদ্রাসন ও আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।এবং সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। খালগুলো সচল হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। এক কৃষক বলেন, “আমাদের জন্য রাস্তা যেমন দরকার, তেমনি খালও দরকার। রাস্তা দিয়ে ফসল বাজারে যাবে, আর খাল ঠিক থাকলে জমিতে পানি জমে নষ্ট হবে না। দুটো কাজ হলে কৃষক সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” উন্নয়নের সুফল চান সাধারণ মানুষ ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি  মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণ এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা এলাকার মানুষের জন্য বড় অর্জন হবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিকে পাশে চান মানুষ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের মানও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে টেকসই কাজ, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যেটা কয়েক বছর পরও মানুষের কাজে থাকবে। শুধু রাস্তা বানালেই হবে না, রাস্তার মান ভালো হতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের আস্থাও ধরে রাখতে হবে।” সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনে উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগকে ঘিরে বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ। এখন তাদের অপেক্ষা—পরিকল্পনা ও উদ্যোগগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়ে বাস্তবের মাটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনে।


মিছিলের রাজপথ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে মির্জা ফয়সল আমীন

মিছিলের রাজপথ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে মির্জা ফয়সল আমীন

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী জীবন, মায়ের কয়লা ভেঙে রান্নার জ্বালানি জোগাড়, রাজনৈতিক মামলা, বিদেশজীবন ও রাজপথের আন্দোলন—জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন মির্জা ফয়সল আমীন।১৯৬৩ সালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় মির্জা রুহুল আমিন (চখামিয়া) ও ফাতেমা বেগমের ঘরে তাঁর জন্ম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ফয়সল আমীনের বাবা ছিলেন শিক্ষক, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। তিনি প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।মুক্তিযুদ্ধের আগে নিরাপত্তার কারণে পরিবারটি ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীর বালিয়া, পঞ্চগড়ের মির্জাপুর ও রানীশংকৈলের বনগাঁয়ে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে ছোট সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যান তাঁর বাবা। ইসলামপুরে শরণার্থী হিসেবে ছোট একটি ঘরে কাটে তাঁদের দিন। খাবার ও জ্বালানির সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। মা ফাতেমা বেগমকে রান্নার জন্য কয়লা ভাঙতে হতো। পরিবারের বড় ছেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে পরিবারটি দেখে, বাড়িঘর ও সম্পদের অনেক কিছুই লুট হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আগে আন্দোলনরত যোদ্ধাদের যাতায়াতে পরিবারের পেট্রোল পাম্প থেকে বিনা মূল্যে জ্বালানি দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা কলেজ এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ফয়সল আমীন। ছাত্রজীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থী হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাতায়াত করতেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।পড়াশোনা শেষে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং চাকরির পাশাপাশি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হয়। মামলাগুলোতে তাঁকে এক নম্বর এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।পরে কয়েক বছর বিদেশে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেখানেও প্রবাসী যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন।মেয়র থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাঁর কার্যালয়ের টেবিলে খালেদা জিয়ার ছবি রেখে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়। একই সময়ে বিএনপির আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। তাঁর উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার গড়ে ওঠে। নাট্যকর্মী লিটু আনামও তাঁর হাত ধরে নাট্যজীবনে যুক্ত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে ফয়সল আমীন বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে আমার পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বাবার সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে ঘুরেছি, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছি। পরে ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। জীবনের নানা সময়ে মামলা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও প্রবাসজীবন এসেছে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিই আমাকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেনি।’তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মানুষের পাশে থাকার যে শিক্ষা বাবা ও বড়ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছি, সেটিই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’


গলাচিপায় পরকিয়া কারণে শেষ হল  নিলুফার সাজানো সংসার।

গলাচিপায় পরকিয়া কারণে শেষ হল নিলুফার সাজানো সংসার।

বিয়ের ১৮ বছর পরে পরকিয়া করতে গিয়ে দুই সন্তানের জননী নিলুফা বেগম স্বামীকে তালাক দিয়ে দুটি সন্তান রেখে স্বামীর টাকা পয়সা নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। প্রেমিকের সাথে বিয়ে হওয়ার এক মাসের মাথায় সে বিবাহটিও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাধীন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কল্যান কলস গ্রামের মৃত: মোবারক হাওলাদার এর পুত্র মোঃ রফিক হাওলাদার (৩৫) এর সাথে একই উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের কন্যা মোসা: নিলুফা বেগম (৩০) এর সাথে আনুমানিক ১৮-২০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্মের বিধান মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিন এর মাধ্যমে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফারজানা (২০) ও ফাতেমা (৮) নামে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।বড় মেয়েটি বিবাহ হয়েছে ছোট মেয়েটির বয়স ১০ বছর। সংসারের অভাব অনটনের কারণে নিলুফা দম্পতি জীবনের তাগিদে  নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন আর স্বামী রিক্সা চালাত এবং স্ত্রী নিলুফা  গার্মেন্টসে কাজ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করতেন। । কিন্তু কিছু দিন পরে রফিকের স্ত্রী নিলুফা বেগম শরীয়তপুরের বাবুর নামে এক লোকের সাথে গভীর পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ে।   এ ঘটনা রফিক জানতে পেরে স্ত্রী নিলুফা বেগমকে একাধিকবার নিষেধ করেন কিন্তু নিলুফা তাহা মেনে নিতে পারেনি। রফিক আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর পরকীয়া সহযোগিতা করতেন নিলুফার ছোট ভগ্নিপতি আব্দুর রহমান পালোয়ান।রফিক আরও জানায়, সে স্ত্রীকে শাসন করিলে রহমান তা জানতে পেরে কয়েকবার ঢাকাতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। রহমানের কাছে হুমকির কথা জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।এ ঘটনা রফিক এর বড় মেয়ে লাইলী বেগম জানতে পেরে তার পিতার জীবন বাঁচাতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরকীয়া প্রেমিক বাবুলের সাথে নিলুফার বিয়ে এক মাসের মাথায় ভেঙ্গে যায়। মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য সাংবাদিক টিম রহমানের বাড়িতে গিয়ে নিলুফার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রফিকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে ১৮-২০ বছর পূর্বে। কিন্তু রফিকের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিন দিন ঝগড়া লেগে থাকে এবং রফিক তাকে প্রায় সময় নির্যাতন করে এ জন্য তাকে তালাক দিয়েছে। রফিকের টাকা পয়সা আত্মসাত করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি এনজিও থেকে ঋণ করেছি রফিক সে টাকা নিয়ে যায়। নিলুফার পিছনের সকল দোষ ক্ষমা করে দিয়ে প্রথম স্বামী রফিক তাকে পুনরায় বিয়ে করে ঘর সংসার করতে চাইলে নিলুফার তাতে সম্মতি আছে কি-না? যেহেতু রফিকের কাছে তার একটি শিশু সন্তান রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিলুফা প্রথমে অসম্মতি জানায় এবং পরক্ষনে বলে আমি একটু চিন্তা করে জানাবো। এর কিছুদিন পরে সে জানিয়ে দেয় তার পক্ষে পুনরায় রফিকের সাথে ঘর সংসার করা সম্ভব না। এ সংক্রান্তে নিলুফার সাবেক দ্বিতীয় স্বামী বাবুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নিলুফার প্রথম   স্বামী রফিকের একটাই দাবি  তিনি পুনরায় তার সাথে আবার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চায়।


বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ:  ডা. টিপু

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ: ডা. টিপু

চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গায় "ডিইএব" এর জেলা শাখার অভিষেক

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, নির্ধারিত রঙে চলবে ইজিবাইক

চুয়াডাঙ্গায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার, নির্ধারিত রঙে চলবে ইজিবাইক

দীঘিনালায় তৃতীয় দফায় বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার।    দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কে পানি, যান চলাচল বন্ধ নৌকায় পারাপার, আটকা শত শত গাড়ি

দীঘিনালায় তৃতীয় দফায় বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার। দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়কে পানি, যান চলাচল বন্ধ নৌকায় পারাপার, আটকা শত শত গাড়ি

সিলেটে আব্দুল্লাহ হত্যা: এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সিলেটে আব্দুল্লাহ হত্যা: এক মাসেও গ্রেপ্তার নেই, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মোহাম্মদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস

মোহাম্মদপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ট্রাস্টের লোগোর মোড়ক উন্মোচন ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

মাটিরাঙ্গায় জামায়াতের দায়িত্ব শীল পর্যায়ের শিক্ষা বৈঠক TS সম্পন্ন।

মাটিরাঙ্গায় জামায়াতের দায়িত্ব শীল পর্যায়ের শিক্ষা বৈঠক TS সম্পন্ন।

ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে বিশাল জশনে জুলুস

ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে বিশাল জশনে জুলুস

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’: ৫ হাজার অসহায় মানুষকে নিজ হাতে খাওয়ালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি।

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’: ৫ হাজার অসহায় মানুষকে নিজ হাতে খাওয়ালেন কিশোরগঞ্জের দম্পতি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র

ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র