দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খটখটিয়া কৃষ্ণপুর এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক তরুণের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত তরুণ ফিলিমন হেমব্রম (২৭) এ ঘটনায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, একটি হাঁস মারা নিয়ে তোলা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফিলিমনের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। ফিলিমন অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের দাবি, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনা নয়; বরং একজন আদিবাসী তরুণ সংগঠকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, ঘটনাটি জাতিগত সংবেদনশীলতার বিষয় হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও একই দিন রাতে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে উভয় পক্ষকে বুল্লির মোড় বাজারে ডাকা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছালে ফিলিমনের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় আদিবাসী নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, দেশের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি তার জাতিগত পরিচয়ের কারণে অপমান, বৈষম্য বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খটখটিয়া কৃষ্ণপুর এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এক তরুণের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহত তরুণ ফিলিমন হেমব্রম (২৭) এ ঘটনায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, একটি হাঁস মারা নিয়ে তোলা অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফিলিমনের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। ফিলিমন অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের দাবি, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত বিরোধের ঘটনা নয়; বরং একজন আদিবাসী তরুণ সংগঠকের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, ঘটনাটি জাতিগত সংবেদনশীলতার বিষয় হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও একই দিন রাতে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে উভয় পক্ষকে বুল্লির মোড় বাজারে ডাকা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছালে ফিলিমনের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। বাঁশের লাঠি, লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় আদিবাসী নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, দেশের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। কোনো ব্যক্তি তার জাতিগত পরিচয়ের কারণে অপমান, বৈষম্য বা সহিংসতার শিকার হতে পারেন না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান এবং আইনের শাসনের প্রশ্নও সামনে এনেছে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন