উত্তর জনপদের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রীষ্মের প্রকৃতি এখন যেন এক অন্য রূপে সেজেছে। গ্রীষ্মের তীব্রতা সয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস জুড়ে গ্রামবাংলায় দেখা দিচ্ছে দেশীয় রসালো ফলের অপার সমারোহ। স্থানীয়ভাবে এই সময়কে ‘মধুমাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের পাকা আম—কোথাও সিঁদুরে লাল, কোথাও হলদে, আবার কোথাও সবুজের মিশেলে রঙিন। আমের পাশাপাশি পেকে উঠেছে কাঁঠাল, লিচু, জামসহ নানা দেশীয় ফল। ফলের ঘ্রাণ আর সৌন্দর্যে চারপাশে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
আত্রাই উপজেলার সদরসহ ভবানীপুর-মিজার্পুর, শাহাগোলা, নওদুলী, বজ্রপুর, বান্ধাইখাড়া বাজারসহ ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গ্রামের গাছেই ঝুলছে মৌসুমি ফল। বিশেষ করে আমকে ঘিরেই এ সময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজারে তৈরি হয় বিশেষ চাঞ্চল্য।
ভবানীপুর জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, বৈশাখের বিদায়ের পর জ্যৈষ্ঠ মাস প্রকৃতিকে ফলের ভারে পরিপূর্ণ করে তোলে। গাছ থেকে সদ্য পাড়া তাজা ফলের স্বাদ এ মাসকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়। তাই জ্যৈষ্ঠকে ‘মধুমাস’ বলা হয়ে থাকে।
তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মধুমাস’ শব্দটি নিয়ে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ভিন্নতা রয়েছে। বাংলা অভিধান ও প্রাচীন সাহিত্যে চৈত্র মাসকে মধুমাস বলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে জ্যৈষ্ঠই মধুমাস হিসেবে পরিচিত হয়ে এসেছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা জানান, গ্রীষ্মকালীন এ সময়ে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস, তরমুজ, গাব, জামরুলসহ নানা রসালো ফলের সমারোহ গ্রামীণ জীবনে এক বিশেষ আনন্দের সৃষ্টি করে। এ সময় অনেক পরিবারে আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটে, আর দেশীয় ফল দিয়ে চলে বিশেষ আপ্যায়ন।
সব মিলিয়ে আত্রাইয়ের জ্যৈষ্ঠ এখন শুধু একটি মাস নয়, বরং প্রকৃতি, স্বাদ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির এক মধুময় উৎসবের নাম।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
উত্তর জনপদের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে গ্রীষ্মের প্রকৃতি এখন যেন এক অন্য রূপে সেজেছে। গ্রীষ্মের তীব্রতা সয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস জুড়ে গ্রামবাংলায় দেখা দিচ্ছে দেশীয় রসালো ফলের অপার সমারোহ। স্থানীয়ভাবে এই সময়কে ‘মধুমাস’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গাছে গাছে ঝুলছে নানা রঙের পাকা আম—কোথাও সিঁদুরে লাল, কোথাও হলদে, আবার কোথাও সবুজের মিশেলে রঙিন। আমের পাশাপাশি পেকে উঠেছে কাঁঠাল, লিচু, জামসহ নানা দেশীয় ফল। ফলের ঘ্রাণ আর সৌন্দর্যে চারপাশে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
আত্রাই উপজেলার সদরসহ ভবানীপুর-মিজার্পুর, শাহাগোলা, নওদুলী, বজ্রপুর, বান্ধাইখাড়া বাজারসহ ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি গ্রামের গাছেই ঝুলছে মৌসুমি ফল। বিশেষ করে আমকে ঘিরেই এ সময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজারে তৈরি হয় বিশেষ চাঞ্চল্য।
ভবানীপুর জিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, বৈশাখের বিদায়ের পর জ্যৈষ্ঠ মাস প্রকৃতিকে ফলের ভারে পরিপূর্ণ করে তোলে। গাছ থেকে সদ্য পাড়া তাজা ফলের স্বাদ এ মাসকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়। তাই জ্যৈষ্ঠকে ‘মধুমাস’ বলা হয়ে থাকে।
তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মধুমাস’ শব্দটি নিয়ে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ভিন্নতা রয়েছে। বাংলা অভিধান ও প্রাচীন সাহিত্যে চৈত্র মাসকে মধুমাস বলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে জ্যৈষ্ঠই মধুমাস হিসেবে পরিচিত হয়ে এসেছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা জানান, গ্রীষ্মকালীন এ সময়ে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস, তরমুজ, গাব, জামরুলসহ নানা রসালো ফলের সমারোহ গ্রামীণ জীবনে এক বিশেষ আনন্দের সৃষ্টি করে। এ সময় অনেক পরিবারে আত্মীয়-স্বজনের আগমন ঘটে, আর দেশীয় ফল দিয়ে চলে বিশেষ আপ্যায়ন।
সব মিলিয়ে আত্রাইয়ের জ্যৈষ্ঠ এখন শুধু একটি মাস নয়, বরং প্রকৃতি, স্বাদ আর গ্রামীণ সংস্কৃতির এক মধুময় উৎসবের নাম।

আপনার মতামত লিখুন