দেশের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও অব্যবহৃত থাকা ঈশ্বরদী বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায়। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে অন্য বিমানবন্দরগুলোও ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানিয়েছেন, জনচাহিদা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর একসময় উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশপথ যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার কারণে নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেড এবং অঞ্চলের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি চালু হলে পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
এদিকে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নির্মাণ। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও বিবেচনায় রয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যাত্রী চাহিদা এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল বলেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দরগুলো চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, পর্যটন বিকাশ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা এবং বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা না গেলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
দেশের দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও অব্যবহৃত থাকা ঈশ্বরদী বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায়। প্রাথমিকভাবে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে অন্য বিমানবন্দরগুলোও ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা জানিয়েছেন, জনচাহিদা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
পাবনার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর একসময় উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশপথ যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে সীমিত ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনার কারণে নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঈশ্বরদী ইপিজেড এবং অঞ্চলের শিল্প ও কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এটি চালু হলে পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
এদিকে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে, আধুনিক টার্মিনাল ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, কার্গো কমপ্লেক্স এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নির্মাণ। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও বিবেচনায় রয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যাত্রী চাহিদা এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল বলেন, অব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দরগুলো চালু হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, পর্যটন বিকাশ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা এবং বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করা না গেলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন