ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাটে ক্রেতা কম, অনলাইন-অ্যাগ্রো ফার্মে ঝুঁকছেন শহুরে ক্রেতারা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬

হাটে ক্রেতা কম, অনলাইন-অ্যাগ্রো ফার্মে ঝুঁকছেন শহুরে ক্রেতারা
ছবিঃ সংগ্রহীত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে গরু তুলেছেন প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা। তবে ঈদের মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের। বিশেষ করে গ্রামের হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বড় গরুর চাহিদাও অনেকটাই কমে গেছে।

খামারিরা বলছেন, আগে ঈদের সময় শহরের ক্রেতারা সরাসরি হাটে এসে বড় গরু কিনতেন। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাগ্রো ফার্মের দিকে ঝুঁকছেন অধিকাংশ ক্রেতা। সেখানে ছবি, ভিডিও, স্বাস্থ্যসনদ এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা থাকায় আগ্রহ বাড়ছে শহুরে মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকার খামারি আনিসুর রহমান বলেন, কয়েক মাস ধরে যত্ন করে একটি বড় ষাড় গরু তৈরি করেছি। হাটে এনেছি ভালো দামের আশায়, কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই। যেটুকু দাম বলা হচ্ছে, তাতে খরচও উঠছে না।

হাটে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরু নিয়ে অপেক্ষা করলেও বিক্রি হচ্ছে সীমিত সংখ্যায়। কিছু ক্রেতা হাটে এসে দাম যাচাই করে ফিরে যাচ্ছেন, পরে অনলাইন বা অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে পশু কিনছেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

তাদের অভিযোগ, বড় গরুর প্রকৃত ক্রেতারা এখন আর হাটে আসছেন না। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। পরে সেই গরুই শহরের অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে অ্যাগ্রো ফার্ম সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং অনলাইন সেবার কারণে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। অনেকেই আগেভাগে ভিডিও দেখে গরু বুকিং দিয়ে রাখছেন, ফলে হাটে যাওয়ার প্রয়োজন কমে গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম জানান, ব্যস্ততার কারণে এবার হাটে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তিনি একটি অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে দুই লাখ ১১ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু।

চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুর হুদা বলেন, খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু লালন-পালন করলেও ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি কমে গেছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।




এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হাটে ক্রেতা কম, অনলাইন-অ্যাগ্রো ফার্মে ঝুঁকছেন শহুরে ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে গরু তুলেছেন প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা। তবে ঈদের মাত্র চার দিন বাকি থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের। বিশেষ করে গ্রামের হাটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বড় গরুর চাহিদাও অনেকটাই কমে গেছে।

খামারিরা বলছেন, আগে ঈদের সময় শহরের ক্রেতারা সরাসরি হাটে এসে বড় গরু কিনতেন। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ও অ্যাগ্রো ফার্মের দিকে ঝুঁকছেন অধিকাংশ ক্রেতা। সেখানে ছবি, ভিডিও, স্বাস্থ্যসনদ এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা থাকায় আগ্রহ বাড়ছে শহুরে মানুষের মধ্যে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকার খামারি আনিসুর রহমান বলেন, কয়েক মাস ধরে যত্ন করে একটি বড় ষাড় গরু তৈরি করেছি। হাটে এনেছি ভালো দামের আশায়, কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই। যেটুকু দাম বলা হচ্ছে, তাতে খরচও উঠছে না।

হাটে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরু নিয়ে অপেক্ষা করলেও বিক্রি হচ্ছে সীমিত সংখ্যায়। কিছু ক্রেতা হাটে এসে দাম যাচাই করে ফিরে যাচ্ছেন, পরে অনলাইন বা অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে পশু কিনছেন বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

তাদের অভিযোগ, বড় গরুর প্রকৃত ক্রেতারা এখন আর হাটে আসছেন না। ফলে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে ব্যবসায়ীদের কাছে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। পরে সেই গরুই শহরের অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে অ্যাগ্রো ফার্ম সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং অনলাইন সেবার কারণে ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। অনেকেই আগেভাগে ভিডিও দেখে গরু বুকিং দিয়ে রাখছেন, ফলে হাটে যাওয়ার প্রয়োজন কমে গেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম জানান, ব্যস্ততার কারণে এবার হাটে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই তিনি একটি অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে দুই লাখ ১১ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু।

চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুর হুদা বলেন, খামারিরা দীর্ঘ সময় ধরে গরু লালন-পালন করলেও ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি কমে গেছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।




এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ