বাংলাদেশ এখন পশুসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর জন্য এখন আর বিদেশি উৎস বা সীমান্তপথে আনা পশুর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে কোরবানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই কোরবানির মৌসুমে বাজারে কোনো ঘাটতির শঙ্কা নেই। তবে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ না করলে এর মান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বাজারমূল্যও কমে যায়। বিশেষ করে মোটা গরুর চামড়ার নিচে থাকা চর্বি দক্ষভাবে আলাদা করা না গেলে আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
চামড়ার মান পশুর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ওপরও নির্ভর করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অসুস্থ পশু বা পোকামাকড় আক্রান্ত হলে তার প্রভাব চামড়ায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা পরে ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করার সময় সমস্যা তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির সময় দক্ষ কসাইয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে চামড়ার মান রক্ষা হবে, অন্যদিকে তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
সরকার ইতোমধ্যে মাদরাসাগুলোতে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে শুধু লবণ দিলেই হবে না, চর্বি পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে ভাঁজ করা এবং সময়মতো সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোতেও প্রশিক্ষণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোরবানির চামড়া থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সবশেষে মন্ত্রী কোরবানির সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্কতা বজায় রাখলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দুটোই সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
বাংলাদেশ এখন পশুসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর জন্য এখন আর বিদেশি উৎস বা সীমান্তপথে আনা পশুর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে কোরবানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তাই কোরবানির মৌসুমে বাজারে কোনো ঘাটতির শঙ্কা নেই। তবে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণ না করলে এর মান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে বাজারমূল্যও কমে যায়। বিশেষ করে মোটা গরুর চামড়ার নিচে থাকা চর্বি দক্ষভাবে আলাদা করা না গেলে আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
চামড়ার মান পশুর স্বাস্থ্য ও পরিচর্যার ওপরও নির্ভর করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অসুস্থ পশু বা পোকামাকড় আক্রান্ত হলে তার প্রভাব চামড়ায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা পরে ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করার সময় সমস্যা তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির সময় দক্ষ কসাইয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে চামড়ার মান রক্ষা হবে, অন্যদিকে তাদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
সরকার ইতোমধ্যে মাদরাসাগুলোতে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সরবরাহ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তবে শুধু লবণ দিলেই হবে না, চর্বি পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে ভাঁজ করা এবং সময়মতো সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোতেও প্রশিক্ষণ জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোরবানির চামড়া থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
সবশেষে মন্ত্রী কোরবানির সময় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্কতা বজায় রাখলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য দুটোই সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন