ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সুপ্রিম কোর্টে নৈশকালীন ডাকঘর চালুর উদ্যোগ


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে নৈশকালীন ডাকঘর চালুর উদ্যোগ

বিচারপ্রার্থী জনগণের ডাকসেবা দ্রুততর করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নৈশকালীন ডাকঘর বা দ্বিতীয় শিফট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ, নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দ্রুত প্রেরণের সুবিধা বাড়াতে ডাকঘর অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ডাকঘর অধিদপ্তর, আগারগাঁও থেকে গত ১২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি পত্র জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিদ্যমান সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় সেবা চালুর বিষয়ে গ্রাহকদের চাহিদা এবং সরকারি কাজের সুবিধা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পত্রটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পোস্টমাস্টার জেনারেল, মেট্রোপলিটন সার্কেল ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৈশকালীন সেবা চালুর পরবর্তী তিন মাসের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই সেবা চালু হলে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ডাকসেবা পাওয়া যাবে। ফলে দিনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদালত সংশ্লিষ্ট নথি, আদেশ ও জরুরি কাগজপত্র প্রেরণের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সাব-পোস্ট অফিসটি দুপুর ২টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। এতে আদালতের কার্যক্রম দিনের পরের অংশে চললেও অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে নথিপত্র পাঠানো সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর জারি হওয়া আদেশ পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকে।

নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চ আদালতের আদেশ একই দিন সংশ্লিষ্ট আদালত, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।

বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার জামিন আদেশ দ্রুত জেলা জজ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছাতে পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আদেশ জারির পর তা হাতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায়, যার কারণে মুক্তি কার্যকর হতেও বিলম্ব হয়।

এ ছাড়া দেওয়ানি মামলা, রিট মামলা এবং অন্যান্য বিচারিক আদেশের ক্ষেত্রেও সময়ক্ষেপণ কমবে। দ্রুত নথি প্রেরণ সম্ভব হলে মামলার পরবর্তী শুনানি, নোটিশ জারি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

এই উদ্যোগের পেছনে আইনজীবীদেরও ভূমিকা রয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মণ্ডল সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন বা ‘বি-গ্রেড’ ডাকসেবা চালুর জন্য ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।

তিনি জানান, বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আদালতের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে অনেক সেবা অনলাইনে গেলেও আদালত ব্যবস্থায় এখনও কাগজপত্র, সত্যায়িত কপি, আদেশপত্র ও ডাকযোগে নথি প্রেরণের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে আদালতকেন্দ্রিক ডাকসেবাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি।

নৈশকালীন ডাকঘর চালু হলে আদালতের ডেসপ্যাচ শাখার ওপর চাপও কমবে। একই দিনে প্রস্তুত হওয়া আদেশপত্র একই দিনে পাঠানো গেলে পরদিন জমে থাকা কাজের চাপ কমবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকেন্দ্রিক সেবায় নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আদালত এলাকাতেও একই ধরনের সেবা চালুর পথ তৈরি হতে পারে।

#আর

বিষয় : সুপ্রিম কোর্ট

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সুপ্রিম কোর্টে নৈশকালীন ডাকঘর চালুর উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিচারপ্রার্থী জনগণের ডাকসেবা দ্রুততর করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নৈশকালীন ডাকঘর বা দ্বিতীয় শিফট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ, নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দ্রুত প্রেরণের সুবিধা বাড়াতে ডাকঘর অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ডাকঘর অধিদপ্তর, আগারগাঁও থেকে গত ১২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি পত্র জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিদ্যমান সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় সেবা চালুর বিষয়ে গ্রাহকদের চাহিদা এবং সরকারি কাজের সুবিধা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পত্রটি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পোস্টমাস্টার জেনারেল, মেট্রোপলিটন সার্কেল ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৈশকালীন সেবা চালুর পরবর্তী তিন মাসের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই সেবা চালু হলে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ডাকসেবা পাওয়া যাবে। ফলে দিনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদালত সংশ্লিষ্ট নথি, আদেশ ও জরুরি কাগজপত্র প্রেরণের সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সাব-পোস্ট অফিসটি দুপুর ২টা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। এতে আদালতের কার্যক্রম দিনের পরের অংশে চললেও অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে নথিপত্র পাঠানো সম্ভব হয় না। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর জারি হওয়া আদেশ পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকে।

নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চ আদালতের আদেশ একই দিন সংশ্লিষ্ট আদালত, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে পাঠানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তিও হ্রাস পাবে।

বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার জামিন আদেশ দ্রুত জেলা জজ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছাতে পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুক্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আদেশ জারির পর তা হাতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায়, যার কারণে মুক্তি কার্যকর হতেও বিলম্ব হয়।

এ ছাড়া দেওয়ানি মামলা, রিট মামলা এবং অন্যান্য বিচারিক আদেশের ক্ষেত্রেও সময়ক্ষেপণ কমবে। দ্রুত নথি প্রেরণ সম্ভব হলে মামলার পরবর্তী শুনানি, নোটিশ জারি এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

এই উদ্যোগের পেছনে আইনজীবীদেরও ভূমিকা রয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড এস এম আরিফ মণ্ডল সাব-পোস্ট অফিসের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন বা ‘বি-গ্রেড’ ডাকসেবা চালুর জন্য ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন।

তিনি জানান, বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও আদালতের বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনায় বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে অনেক সেবা অনলাইনে গেলেও আদালত ব্যবস্থায় এখনও কাগজপত্র, সত্যায়িত কপি, আদেশপত্র ও ডাকযোগে নথি প্রেরণের গুরুত্ব রয়েছে। ফলে আদালতকেন্দ্রিক ডাকসেবাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করা জরুরি।

নৈশকালীন ডাকঘর চালু হলে আদালতের ডেসপ্যাচ শাখার ওপর চাপও কমবে। একই দিনে প্রস্তুত হওয়া আদেশপত্র একই দিনে পাঠানো গেলে পরদিন জমে থাকা কাজের চাপ কমবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে।

আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতকেন্দ্রিক সেবায় নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আদালত এলাকাতেও একই ধরনের সেবা চালুর পথ তৈরি হতে পারে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ