ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত দিনে আদালতে দাখিল করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ মে নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটি আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে গুলি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওইদিন দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় একদল দুষ্কৃতকারী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মামলাটির আইনগত ধারা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে ছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ওপর। গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী। তিনি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষার অভিযোগ এনে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
এরপর থেকে সিআইডি মামলার পুনঃতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একাধিকবার সময় নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ রোববারও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় নতুন করে ৫ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
ডিবির জমা দেওয়া চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৬ জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, অধিকতর তদন্তের ক্ষেত্রে আগের তদন্তে বাদ পড়া তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, প্রযুক্তিগত উপাত্ত এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা নতুন করে যাচাই করা হয়। ফলে সময় বেশি লাগলেও তদন্তের মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মামলার বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত জরুরি।
এদিকে আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছানোয় বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সময় আরও দীর্ঘায়িত হলো। এখন ৫ মে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দেয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
#আর
বিষয় : হাদি হত্যা মামলা

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন নির্ধারিত দিনে আদালতে দাখিল করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ মে নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটি আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে গুলি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওইদিন দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় একদল দুষ্কৃতকারী ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মামলাটির আইনগত ধারা পরিবর্তন করে হত্যা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০ ডিসেম্বর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে ছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ওপর। গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মামলার বাদী। তিনি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষার অভিযোগ এনে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। গত ১৫ জানুয়ারি আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
এরপর থেকে সিআইডি মামলার পুনঃতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু একাধিকবার সময় নেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ রোববারও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় নতুন করে ৫ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
ডিবির জমা দেওয়া চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকি ৬ জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবীরা বলছেন, অধিকতর তদন্তের ক্ষেত্রে আগের তদন্তে বাদ পড়া তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, প্রযুক্তিগত উপাত্ত এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা নতুন করে যাচাই করা হয়। ফলে সময় বেশি লাগলেও তদন্তের মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মামলার বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হবে এবং প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত জরুরি।
এদিকে আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছানোয় বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর সময় আরও দীর্ঘায়িত হলো। এখন ৫ মে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দেয় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
#আর

আপনার মতামত লিখুন