দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনে ভোগান্তিতে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে সরকারি দায়িত্ব দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পালনের স্বার্থে দেশের সব জ্বালানি পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ভিআইপি নিরাপত্তা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বহুমাত্রিক দায়িত্বে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। এসব দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন কিংবা রিকুইজিশন করা যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে পুলিশ সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জরুরি দায়িত্ব পালনে বিলম্ব ঘটছে। বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, টহল কার্যক্রম, মামলার তদন্তে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, দুর্ঘটনা কিংবা দুর্যোগে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হলে জননিরাপত্তা সেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইনের বাইরে গিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে সদস্যদের।
চিঠিতে বলা হয়, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে পৃথক লাইন, বিশেষ বুথ বা অগ্রাধিকার সেবা চালু করা প্রয়োজন। এতে দায়িত্ব পালনরত সদস্যরা দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন এবং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও গতি আসবে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে কেবল পুলিশ সদস্যরাই উপকৃত হবেন না, সাধারণ জনগণও আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন। কারণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, টহল জোরদার করা কিংবা অপরাধ দমনে সময়ক্ষেপণ কমে যাবে।
জ্বালানি সংকট ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক এবং জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক সুবিধার দাবি উত্থাপন সেই সংকটেরই নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
#আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্ব পালনে ভোগান্তিতে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা। এ পরিস্থিতিতে সরকারি দায়িত্ব দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পালনের স্বার্থে দেশের সব জ্বালানি পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ভিআইপি নিরাপত্তা এবং দুর্যোগকালীন সহায়তাসহ বহুমাত্রিক দায়িত্বে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। এসব দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন কিংবা রিকুইজিশন করা যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হয়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে পুলিশ সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জরুরি দায়িত্ব পালনে বিলম্ব ঘটছে। বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, টহল কার্যক্রম, মামলার তদন্তে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, দুর্ঘটনা কিংবা দুর্যোগে তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে হলে জননিরাপত্তা সেবায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাইনের বাইরে গিয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে সদস্যদের।
চিঠিতে বলা হয়, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে পৃথক লাইন, বিশেষ বুথ বা অগ্রাধিকার সেবা চালু করা প্রয়োজন। এতে দায়িত্ব পালনরত সদস্যরা দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন এবং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও গতি আসবে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করছে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে কেবল পুলিশ সদস্যরাই উপকৃত হবেন না, সাধারণ জনগণও আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পাবেন। কারণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, টহল জোরদার করা কিংবা অপরাধ দমনে সময়ক্ষেপণ কমে যাবে।
জ্বালানি সংকট ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, পরিবহন শ্রমিক এবং জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক সুবিধার দাবি উত্থাপন সেই সংকটেরই নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন