চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তিনি হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী এবং আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথমে আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পরে বিমানবন্দরের টার্মিনালে গিয়ে উদ্বোধনী হজ ফ্লাইটে ওঠেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ফ্লাইটে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আল্লাহর মেহমান। যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তারা দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করবেন। তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা যেন সফলভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হজ ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এরপরও সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হজযাত্রীদের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে এবার প্রতিটি টিকিটে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর আরও ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হবে। কম ব্যয়ে যাতে মানুষ হজে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে। পাশাপাশি যাত্রীসেবা, পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে।
ফ্লাইটের ভেতরেই প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা, সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি বিমান থেকে নেমে ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে। উদ্বোধনী দিনে মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ৪টি সৌদিয়া এবং ৪টি ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালনা করবে।
সৌদি আরবের ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট ছাড়াই নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে পুরো হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা, কম খরচে টিকিট নিশ্চিত করা এবং যাত্রীসেবায় সমন্বিত উদ্যোগের কারণে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও সুসংগঠিত হয়েছে।
#আরএ
বিষয় : হজ ফ্লাইট

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
চলতি বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তিনি হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী এবং আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমানোর আশ্বাস দেন।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথমে আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রীদের থাকা-খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পরে বিমানবন্দরের টার্মিনালে গিয়ে উদ্বোধনী হজ ফ্লাইটে ওঠেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ফ্লাইটে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আল্লাহর মেহমান। যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে, তারা দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করবেন। তিনি বলেন, দেশের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা যেন সফলভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হজ ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। এরপরও সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হজযাত্রীদের খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে এবার প্রতিটি টিকিটে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী বছর আরও ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করা হবে। কম ব্যয়ে যাতে মানুষ হজে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে। পাশাপাশি যাত্রীসেবা, পরিবহন ও আবাসন ব্যবস্থাও উন্নত করা হবে।
ফ্লাইটের ভেতরেই প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা, সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি বিমান থেকে নেমে ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ১২টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকা ত্যাগ করে। উদ্বোধনী দিনে মোট ১৪টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ৪টি সৌদিয়া এবং ৪টি ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস পরিচালনা করবে।
সৌদি আরবের ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী পরিবহন করা হবে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এবং ফ্লাইনাস মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট ছাড়াই নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে পুরো হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা, কম খরচে টিকিট নিশ্চিত করা এবং যাত্রীসেবায় সমন্বিত উদ্যোগের কারণে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও সুসংগঠিত হয়েছে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন