দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলোগাড়ী এলাকায় অবস্থিত অ্যাডভান্স মডেল স্কুলে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পান্তা উৎসব, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের আলো ফুটতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন পাঞ্জাবি, শাড়ি ও বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ছোট ছোট শিশুদের উচ্ছ্বাস, হাসি আর কোলাহলে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্কুল মাঠে গ্রামীণ আবহ তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়। মাটির সানকি ও পাত্রে পরিবেশন করা হয় পান্তা ভাত, আলু ভর্তা, শুটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি। ঐতিহ্যবাহী এই খাবার উপভোগ করতে শিক্ষার্থীরা যেন এক অন্যরকম আনন্দে মেতে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি ছিল প্রথমবারের মতো পান্তা ভাত খাওয়ার অভিজ্ঞতা, যা তাদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। শিক্ষকরা জানান, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, ফলে তারা ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ ধরনের আয়োজন প্রতি বছর করা হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পরিচালক, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একসঙ্গে বসে এই উৎসব উপভোগ করেন, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে তারা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং বাঙালি পরিচয়ের প্রতি গর্ববোধ তৈরি হয়।
পান্তা উৎসব শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, যেখানে বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষকবৃন্দ। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও বৈশাখী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। পুরো আয়োজনটি শুধু একটি উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালিয়ানা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বীজ বপনের এক অনন্য উদ্যোগ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলোগাড়ী এলাকায় অবস্থিত অ্যাডভান্স মডেল স্কুলে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পান্তা উৎসব, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের আলো ফুটতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙিন পাঞ্জাবি, শাড়ি ও বৈশাখী পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ছোট ছোট শিশুদের উচ্ছ্বাস, হাসি আর কোলাহলে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে স্কুল মাঠে গ্রামীণ আবহ তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে বসার ব্যবস্থা করা হয়। মাটির সানকি ও পাত্রে পরিবেশন করা হয় পান্তা ভাত, আলু ভর্তা, শুটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি। ঐতিহ্যবাহী এই খাবার উপভোগ করতে শিক্ষার্থীরা যেন এক অন্যরকম আনন্দে মেতে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি ছিল প্রথমবারের মতো পান্তা ভাত খাওয়ার অভিজ্ঞতা, যা তাদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। শিক্ষকরা জানান, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে, ফলে তারা ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ ধরনের আয়োজন প্রতি বছর করা হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পরিচালক, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একসঙ্গে বসে এই উৎসব উপভোগ করেন, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে তারা নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং বাঙালি পরিচয়ের প্রতি গর্ববোধ তৈরি হয়।
পান্তা উৎসব শেষে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, যেখানে বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন শিক্ষকবৃন্দ। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও বৈশাখী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
দিনব্যাপী এই আয়োজন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। পুরো আয়োজনটি শুধু একটি উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছিল নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালিয়ানা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বীজ বপনের এক অনন্য উদ্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন